“ভারত ছাড়া কী চলবে?” নরসিংদীর ঘটনার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ তসলিমার

Published on:

Published on:

Taslima Nasrin slams Bangladesh over anti-India mindset
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্ত পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভারতের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিরোধী মনোভাব নিয়ে এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে একের পর এক তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)

তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) এক্স (X) হ্যান্ডেলে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলা থেকে বাদ পড়েছি। ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে বাদ পড়েছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থেকেও বাদ পড়েছি। তবু জন্ম থেকেই ভারতকে শত্রু মনে করা হচ্ছে!” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারত যদি চাল, গম, পেঁয়াজ, আলু, চিনি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, যন্ত্রপাতি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের কী হবে?”

নরসিংদীর হত্যাকাণ্ডের পরেই পোস্ট

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে নরসিংদীর সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ, ২৩ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবক চঞ্চল ভৌমিককে গ্যারেজের ভেতরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই ঘটনার পরই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় মুখ খোলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।

ভারত সহায়তা বন্ধ করলে কী হবে? একাধিক প্রশ্ন তসলিমার

তসলিমা (Taslima Nasrin) লেখেন, যদি ভারত থেকে পোশাক কারখানার জন্য কাপড়, সুতা, রং এবং অন্যান্য উপকরণ আসা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কী হবে? গঙ্গা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের জল যদি না আসে তাহলে কী হবে? ভারত যদি উচ্চশিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার দরজা বন্ধ করে দেয় তাহলে কী হবে? নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির জন্য ভারত যদি ট্রানজিট রুট বন্ধ করে দেয়, তখন বাংলাদেশের অবস্থা কী হবে?

তিনি (Taslima Nasrin) আরও লেখেন, বাংলাদেশ তখনও বাংলাদেশই থাকবে, মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার বাড়বে, শিশুরা মাটির কাপ বানিয়ে বড় হবে, যৌন নিপীড়নের শিকার হবে কিশোর-কিশোরীরা। মৌলবাদের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকবে মানুষ। নারীরা বোরখার অন্ধকারে ডুবে যাবে। উগ্রবাদ তরুণদের পেশা হয়ে উঠবে এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচিত করবে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইস্যুতে আশঙ্কা তসলিমার

এর কয়েকদিন আগেই হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা টাঙিয়েছিলেন—যা তিনি আদৌ করেননি। তসলিমার অভিযোগ, ‘বাংলাদেশের পতাকার ওপর আইএস-এর পতাকা তুলতে দেওয়া হয়, কিন্তু গেরুয়া হলেই সমস্যা’। এই হাস্যকর অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে চিন্ময় জেলে রয়েছেন। জামিন তো দেওয়া হয়নি, বরং আলিফ হত্যাকাণ্ডে তাঁকে নতুন করে জড়ানো হয়েছে, যদিও সেই সময় তিনি পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন।

What did Taslima Nasrin say about the current situation in Bangladesh?

আরও পড়ুনঃ নদীপাড়ে ‘খড়ি’র টোপ দিয়ে নাবালিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন ‘দাদুর’! উত্তপ্ত কোচবিহার

তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) আরও লেখেন, “বাংলাদেশে এখন জিহাদি সরকারের শাসন চলছে। হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সবের বিরুদ্ধে কথা বলতেন বলেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে টার্গেট করা হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, “আমার ভয় হয়, কোনওদিন খবর পাব তিনি মারা গেছেন। তিনি মরবেন না, তাঁকে হত্যা করা হবে। বাংলাদেশের জেলগুলোতে রাজনৈতিক হত্যা নতুন কিছু নয়।”