বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে মণিপুর (Manipur)। মণিপুরের উখরুল জেলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লিটান গ্রাম-সহ একাধিক পার্বত্য এলাকায় দুই উপজাতি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে হিংসার আগুনে পুড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ৩০টিরও বেশি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন হিংসা কবলিত এলাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গোটা জেলাজুড়ে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তেজনা ছড়াল মণিপুরে (Manipur)
রাষ্ট্রপতি শাসন অবসানের পর গত সপ্তাহেই মণিপুরে নতুন সরকার গঠিত হলেও নাগা ও কুকি উপজাতির মধ্যে দীর্ঘদিনের অশান্তি ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। গত রবিবার থেকে উখরুল জেলার লিটান গ্রাম-সহ আশপাশের এলাকাগুলিতে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। অভিযোগ, তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে কয়েক জন হেনস্থা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রথম সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধকে তীব্র করে তোলে।
আরও পড়ুন: ডানকুনি–সুরাট DFC: বাংলার শস্যক্ষেত থেকে গুজরাটের বাজারে ‘সমৃদ্ধির সেতু’ কি কি সুবিধা দেবে?
রবিবার সন্ধ্যায় লিটান গ্রামে তাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে ব্যাপক পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন তৎপর হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই উখরুল জেলার কিছু অংশে কার্ফু জারি করা হয়। সোমবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সন্ধ্যার দিকে আবার হিংসা মাথাচাড়া দেয় এবং একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সারেখং গ্রামে একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রতিশোধমূলক হামলায় নিকটবর্তী এলাকায় কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অন্তত ৩০টিরও বেশি বাড়ি ভস্মীভূত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে, ফলে আতঙ্কে বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। এক জেলা আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া ঠিক নয়’, এজলাসে বসে বললেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন লাগানো ও গুলি চালানোর একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া রুখতেই ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাতভর অশান্তির পর মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, ত্রাণের ব্যবস্থা এবং দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।












