বাংলাহান্ট ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কিশ্তওয়ার জেলায় একটি সুপরিকল্পিত ও অত্যন্ত গোপন জঙ্গি বাঙ্কার উদ্ধার করেছে ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই ডেরাটির সন্ধান মেলে সোমবার, যা গাছ ও প্রাকৃতিক আড়ালের মধ্যে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে দূর থেকে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব ছিল। বাঙ্কারটির নকশা শুধু লুকিয়ে থাকার জন্যই নয়, প্রতিহত করার উপযোগীও ছিল বলে সেনা সূত্রে জানা গেছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) জঙ্গিদের ডেরার হদিশ পেল সেনা
এই গোপন ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ রসদ ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে পাওয়া গেছে ৫০ প্যাকেট ম্যাগি, কাঁচা সবজি, চাল, রান্নার সরঞ্জাম এবং শুকনো কাঠ। উদ্ধারকৃত রসদের পরিমাণ দেখে নিরাপত্তা বাহিনী অনুমান করছে যে জঙ্গিরা দীর্ঘ সময় ধরে, সম্ভবত কয়েক মাস, এই বাঙ্কারে অবস্থান করছিল এবং স্থানীয় সহযোগিতায় নিয়মিত রসদ সরবরাহ পেত।
আরও পড়ুন: রোজকার যাতায়াতের জন্য দুর্ধর্ষ বাইক! মাত্র এত টাকায় মিলছে Bajaj Pulsar Neon, চমকে দেবে ফিচার্স
স্থানীয় সহায়তা ছাড়া এত দুর্গম এলাকায় এ ধরনের বাঙ্কার তৈরি ও রসদ পৌঁছানো অসম্ভব বলে সন্দেহ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই সন্দেহের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে চারজন স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে জঙ্গিদের সাহায্যকারী আরও কারা ছিল এবং রসদ সরবরাহের নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় নজরদারিও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এই আবিষ্কারের পটভূমিতে গত তিন দিন ধরে কিশ্তওয়ারে জইশ-ই-মহম্মদের দুই জঙ্গি সইফুল্লা ও আদিলকে খোঁজে তীব্র তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। রবিবার রাতে জঙ্গিদের ছোড়া একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে সাতজন জওয়ান আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের পরবর্তীতে মৃত্যু হয়। এই হামলার পর থেকেই অভিযানের গতি তীব্রতর করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযানের তৃতীয় দিনেও দুই জঙ্গিকে এখনও আটক করা যায়নি।

আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে সুযোগ পাবে কোন দল? জানলে অবাক হবেন
গত ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ট্র্যাশ-১’ নামে এই এলাকায় জঙ্গিদমন অভিযান চালানো হচ্ছে। গোপন এই বাঙ্কার উদ্ধারকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, মূল লক্ষ্যবস্তু জঙ্গিদেল আটক করতে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনা সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গিদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত এই তল্লাশি অভিযান চলবে এবং পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে জঙ্গিমুক্ত করাই তাদের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য।

















