বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ আহ্বানের এক দশক পূর্তির প্রাক্কালে ভারতের উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাত, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (International Monetary Fund) ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এআই ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ এবং সংস্কার, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদের কারণে ভারতের এই উন্নয়ন প্রশংসনীয়। তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্প্রতি এআই নিয়ে আইএমএফের একটি প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ খোদ IMF (International Monetary Fund) প্রধান:
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জিয়েভা বলেন, ভারতের গতিশীল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তিনি ভারতের এআই ভবিষ্যৎকে অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা, বর্ধমান স্টেশনে স্থানীয়দের অবরোধ, বিপর্যস্ত যাতায়াত
এই সাক্ষাৎকারের আগে, এআই সূচকে ভারতকে ‘দ্বিতীয় স্তরের দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে আইএমএফের একটি মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, এআই গবেষণা ও উদ্ভাবনে ভারত বিশ্বের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জর্জিয়েভা এখন সেই বিতর্ককে একটি ‘ছোটখাটো বিভ্রান্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
জর্জিয়েভা দাবি করেন, পূর্ববর্তী আলোচনায় সঞ্চালক আইএমএফের অবস্থান সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি অবিচলিত: এআই উন্নয়নে ভারত একটি প্রধান শক্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর এই ব্যাখ্যায় আইএমএফের অবস্থান নিয়ে তৈরি ধোঁয়াশা অনেকটাই দূর হয়েছে। এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি কূটনৈতিক শক্তিরও একটি স্বীকৃতি।

আরও পড়ুন: কামাখ্যা যাওয়া হলো আরো সহজ, জেনে নিন হাওড়া কামাখ্যা বন্দে ভারতে থাকছে কি কি সুবিধা
আইএমএফ প্রধানের এই প্রশংসা ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই শুধু নয়, আগামী দিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশও বটে। তিনি জানান, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় ‘ইন্ডিয়া-এআই সামিটে’ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবেই ভারতের এই উন্নয়ন পরিমাপ করতে চলেছেন।












