বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন পর্বে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। বহু জায়গায় প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার রেশন (Ration) ব্যবস্থাতেও বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গোটা দেশের রেশন কার্ড গ্রাহকদের তথ্য আবার নতুন করে নথিভুক্ত করা হবে এবং সেই কাজে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি।
রেশন কার্ডের (Ration) তথ্য নথিভুক্তকরণ
তথ্য নথিভুক্তিকরণের ফলে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রেশন তালিকাতে এবার নাম বাদ পড়তে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে কেন্দ্র সরকার দেশের প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করছে। এত বড় ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে উপভোক্তাদের তথ্যভান্ডার আধুনিক পদ্ধতিতে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলেই মনে করছে কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার প্রত্যেক রেশন গ্রাহককে ফের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া করতে হবে। সেই তথ্য যাচাইয়ের কাজেই ব্যবহৃত হবে এআই প্রযুক্তি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্র জানতে চাইছে, প্রকৃতপক্ষে কতজন মানুষ এখনও রেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল এবং কারা অযোগ্য হয়েও এই সুবিধা নিচ্ছেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ‘সার্থক রেশন প্রকল্প’ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালু থাকবে। সরকারের মতে এর ফলে, “একজনও গরিব মানুষ যেন রেশন থেকে বাদ না পড়ে। যাঁদের পাওয়ার কথা নয়, তেমন কতজন গ্রাহক রেশন পাচ্ছেন সেটাও চিহ্নিত করা হবে।”
বিরোধীদের একাংশের দাবি, এসআইআরের সময় যেমন বহু ত্রুটি সামনে এসেছিল, তেমনই এআই-নির্ভর এই নতুন যাচাই প্রক্রিয়াতেও প্রকৃত উপভোক্তাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে শুধু তালিকা সংশোধনই নয়, রেশন ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। এছাড়াও এই নতুন প্রকল্পে এআই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বছরে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব বলেও দাবি কেন্দ্রের।

আরও পড়ুন : সরকারের বড় ঘোষণা! গ্যারেন্টার ছাড়াই মিলবে ২০ লক্ষ টাকার ঋণ
কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপকে একদিকে যেমন রেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে আশঙ্কা—প্রযুক্তির জালে পড়ে যাতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য অধিকার হারিয়ে না যায়।













