বাবার হাতে খুন মা-সহ আত্মীয়রা! আলমারিতে লুকিয়েই প্রাণে বাঁচল ৩ সন্তান

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার (America) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিল সিটিতে এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী ও তিন আত্মীয়কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে। এই ভয়াবহ ঘটনার সময় আলমারির ভেতর লুকিয়ে থাকা তিন শিশু ৯১১ নম্বরে ফোন করে তাদের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বিজয় কুমারকে গ্রেপ্তার করে।

আমেরিকায় (America) ভারতীয় পরিবারের হত্যাকাণ্ডের গল্প প্রকাশ্যে

ফক্স ৫ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয় কুমার স্ত্রী মিমু ডোগরা ও তিন সন্তান নিয়ে স্থানীয় একটি বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় আসেন এবং রাত সাড়ে দু’টোর দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা তীব্র আকার ধারণ করে। ঝগড়ার শব্দে জেগে ওঠা তিন শিশু ভয় পেয়ে আলমারির ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন: সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে মাও দমন অভিযান! ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে মৃত্যু ১৭ জন মাওবাদীরা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝগড়া থামাতে এগিয়ে এলেই বিজয় কুমার আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি হঠাৎ একটি বন্দুক বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর ৪৩ বছর বয়সী স্ত্রী মিমু ডোগরা এবং তিন আত্মীয় গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দ্র (৩৭) ও হরিশ চন্দ্রের (৩৮)। বাইরে গুলির আওয়াজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, আলমারির ভেতর থেকে শিশুরা ৯১১ নম্বরে জরুরি কল করে।

সেই কলের সূত্র ধরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। তারা চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আলমারি থেকে তিন শিশুকে নিরাপদে বের করে আনে। পুলিশের দাবি, শিশুটির সময়োচিত ও সাহসী ফোন কল ছাড়া তাদের উদ্ধার সম্ভব হতো না। প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, পরিবারটি বাইরে থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুখী বলে মনে হলেও ভেতরে কোথাও না কোথাও বিস্ফোরণ অপেক্ষা করছিল।

The story of the murder of an Indian family in America has come to light.

আরও পড়ুন: চিনের কাছ থেকে মিলছে অর্থ! ভারতের সীমান্তের কাছে এবার যা বানাতে চলেছে বাংলাদেশ…

বিজয় কুমারকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যার মোটিভ ও বন্দুটির উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ও মর্মাহত ও হতবাক। শিশু তিনটিকে অপর এক আত্মীয়ের কাছে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে। এই একটি কল যে কীভাবে একটি সম্পূর্ণ পরিবারের শেষ অবশিষ্ট সদস্যদের বাঁচিয়ে দিল, তা এই মর্মান্তিক ঘটনার একমাত্র স্বস্তিদায়ক দিক হয়ে রইল।