বাংলাহান্ট ডেস্ক: রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের (India) উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুল্ক কার্যকর হওয়ার মুখে ওয়াশিংটনের এই অবস্থান বদলকে ভারতের জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু ভারত নয়, আমেরিকার (America) এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেতে পারে চিনও। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনার কারণে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকী, রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের উপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে রাশিয়া সংক্রান্ত একাধিক নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক প্রয়োগে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রুশ তেল কিনলেও ভারতের (India) উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে না আমেরিকা
জানা গিয়েছে, গত মাসে ‘লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প (Donald Trump)। ওই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর পথ খুলে গিয়েছিল আমেরিকার সামনে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে মার্কিন বাজারে সেগুলির দাম বাড়তে পারত। পাশাপাশি, ভারতীয় রফতানিকারীদের ব্যবসাতেও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ফলে ট্রাম্পের এই বিল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছিল ভারতের বাণিজ্য মহলে।
আরও পড়ুন: ভারতের চাল রফতানির দাম বাড়তেই সমগ্র এশিয়ায় আলোড়ন! প্রবল চাপে বাংলাদেশও
তবে সেই আশঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার গভীর রাতে একটি নির্দেশনামা জারি করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক প্রয়োগ থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াই আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত। তাঁর এই ঘোষণার ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলেও বাস্তবে সেই বিপুল শুল্কের বোঝা আপাতত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে শুল্ক নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছে ভারত। একই পরিস্থিতিতে চিনের উপরও এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই অবস্থান বদলের পিছনে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সূত্রের খবর, রাশিয়ার সঙ্গে তেল সংক্রান্ত চুক্তি নিজেই সম্পন্ন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে গেলে, ভারত ও চিনের মতো দেশগুলিকে একই কারণে শাস্তিমূলক শুল্কের মুখে ফেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত। যদিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে ঠিক কী কী কারণ কাজ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য এবং আমেরিকার বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘কুণালবাবুর সারদার টাকা থেকে তো করিনি’! রাস্তায় রামধনু রং নিয়ে সপাট জবাব অগ্নিমিত্রার
তবে আপাতত স্বস্তি মিললেও ভারতকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ, ট্রাম্পের (Donald Trump) নির্দেশে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে তা প্রত্যাহার করে ফের নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক কার্যকর করার সুযোগ তাঁর হাতে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তার উপর ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থও অনেকটা নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি কেনা এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নয়াদিল্লির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ভারতীয় রফতানিকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ভবিষ্যতে মার্কিন নীতিতে ফের পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।














