বাংলাহান্ট ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) দ্বারস্থ হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী- (Rahul Gandhi) সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বৈধতা খতিয়ে দেখা এবং নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তের মতো একাধিক দাবি নিয়ে শীর্ষ আদালতে যৌথ মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা। কিন্তু মামলা দায়েরের পরেই সামনে এসেছে একাধিক প্রশাসনিক ও নথিগত ত্রুটির বিষয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে জানানো হয়েছে, বিরোধীদের জমা দেওয়া আবেদনে মোট ১৪টি ত্রুটি রয়েছে। এমনকী, কোর্ট ফি বাবদ নির্ধারিত অর্থের তুলনায় ২২০ টাকা কম জমা পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শুনানির জন্য মামলাটি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে আবেদন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
ভোটচুরির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) রাহুলদের দায়ের করা মামলায় রয়েছে একাধিক ত্রুটি
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোট চুরির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) দিকে মিছিল করেন তাঁরা। সেই সময়ই বিরোধীদের আইনজীবীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। কিন্তু আবেদনের নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করে রেজিস্ট্রি। প্রয়োজনীয় নথির অভাব থেকে শুরু করে পৃষ্ঠার বিন্যাস ও লেখার অস্পষ্টতা—বিভিন্ন বিষয়েই আপত্তি জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রির নির্দেশ অনুযায়ী, এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোতে পারবে। তবে এই ত্রুটিগুলি মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আদালতের কোনও সিদ্ধান্ত নয়।
আরও পড়ুন: কালীপুজোর আগেই বড় চমক! অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা দিচ্ছে মোদী সরকার
আবেদনে যে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল কোর্ট ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া এবং নয় জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট ফটোকপি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আবেদনের কয়েকটি অংশে অত্যন্ত ছোট অক্ষরে লেখা, দু’টি নির্দিষ্ট নথির রঙিন কপি না থাকা এবং কিছু নথির লেখা অস্পষ্ট হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে রেজিস্ট্রি। কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা এবং পৃষ্ঠা নম্বরের অসঙ্গতিও নজরে এসেছে। অর্থাৎ, মামলার আবেদনে শুধু আর্থিক ঘাটতিই নয়, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা ও উপস্থাপন নিয়েও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই সমস্ত বিষয় মিটিয়ে আবেদনটি ফের জমা দিতে হবে বিরোধীদের।
এই যৌথ মামলার আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে নথিভুক্ত হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর-সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে পেশ করা হোক, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা হোক এবং অনিয়মে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে অডিটের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোবেন? জেনে নিন মেট্রোর প্রথম ও শেষ ট্রেনের সময়
এর আগে সোমবারই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন বিরোধী জোটের নেতারা। ভোট চুরির অভিযোগের নিষ্পত্তি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ এবং ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ফিরিয়ে আনার মতো দাবি ছিল সেই স্মারকলিপিতে। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন গ্রহণ করেননি বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, সাধারণ নাগরিক থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সকলেরই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে। আপাতত বিরোধীদের দায়ের করা মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধনের উপর। আবেদনটি নিয়মমাফিক সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই শুনানির প্রক্রিয়া এগোতে পারে। তার আগে ভোট চুরির অভিযোগ বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের দাবির বিষয়ে আদালতের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না (Supreme Court of India)।














