বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুদ্ধের আবহে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সাপ্লাই চেনে ওপর যে গুরুতর হুমকি ঘনিয়ে আসছে তা ইতিমধ্যেই ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। এই আবহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, উপসাগরীয় দেশগুলি এখন ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্রিয়ভাবে নতুন পথ খুঁজছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বড় সঙ্কট এড়ানোর জন্য বিশ্ব যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দিকে নজর রাখছে, তা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থিত ভারত (India)-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর তথা IMEC (India Middle East Economic Corridor)। ভারতের এই দূরদৃষ্টি এখন বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার সর্বশ্রেষ্ঠ নিশ্চয়তা হয়ে উঠছে।
গোটা বিশ্বকে তেলের সঙ্কট থেকে বাঁচাবে ভারতের (India) এই মেগা প্রকল্প:
হরমুজ এখনও বিশ্বের ‘লাইফলাইন’: জানিয়ে রাখি যে, গত কয়েক দশক ধরে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় তেল পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্য পরিবহণকে প্রভাবিত করেছে। জ্বালানি সংস্থাগুলি আশঙ্কা করছে যে, সামান্য কোনও প্রতিবন্ধকতাও কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করতে পারে। এই বিশাল বিপদ আঁচ করে উপসাগরীয় দেশগুলি সঙ্কট আরও তীব্র হওয়ার আগেই বাধা এড়ানোর জন্য তেল পরিবহণের জন্য নতুন পাইপলাইন, রেলপথ ও সড়কের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

ভারতের করিডোরটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হবে: এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ফাইনান্সিয়াল টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এই নতুন বিকল্প তেল পথগুলি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আমেরিকা-সমর্থিত IMEC প্রকল্প। এই করিডোরটি মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে ভারতকে সরাসরি ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। গত মাসে ইজরায়েল সফরের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী IMEC এবং I2U2 (ভারত, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবংআমেরিকা) গোষ্ঠীর অধীনে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য স্পষ্ট আহ্বান করেন। যা এবার ফলপ্রসূ হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। ভারত এখন আর শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের সাপ্লাই চেন সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘একটাই স্বপ্ন ছিল…’, ODI বিশ্বকাপ জয়ের ১৫ বছরে স্মৃতি রোমন্থন সচিনের, জিতলেন অনুরাগীদের মন
নেতানিয়াহুর ‘দীর্ঘমেয়াদী’ পরিকল্পনা: এদিকে, এই কৌশলগত পরিবর্তনের আবহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল দেশগুলিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ওই দেশগুলির সাহস দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা উচিত। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের নিরাপত্তারও আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দেশগুলিকে তাদের নিজস্ব পথ সুরক্ষিত ও ব্যবহার করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই বিকল্প পথগুলির একজন শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর মতে, সামরিক পদক্ষেপ কেবল তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি কেবল পরিকাঠামোগত কৌশলগত (যেমন পশ্চিম দিকে পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ইরানের ভৌগোলিক সংকীর্ণ পথটি এড়িয়ে যাওয়া) পরিবর্তনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুন: ম্যাচ হেরে পন্থের প্রতি অসন্তুষ্ট সঞ্জীব গোয়েঙ্কা? LSG-র অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে দিলেন বিশেষ বার্তা
সৌদি আরবের ‘মাস্টারস্ট্রোক’: তবে, ইতিমধ্যেই সৌদি আরব একটি নিরাপদ বিকল্প প্রস্তুত করেছে। তারা ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে সরাসরি লোহিত সাগরে তেল পরিবহণ করে। যার ফলে হরমুজে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সংক্রান্ত একজন উচ্চ আধিকারিক একটি একটি ‘অসাধারণ মাস্টারস্ট্রোক’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও, ইজরায়েলের হাইফা বন্দরের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপকে সরাসরি ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। লেবাননের নির্মাণ সংস্থা ক্যাট গ্রুপের CEO ক্রিস্টোফার বুশ নিশ্চিত করেছেন যে, বিভিন্ন পাইপলাইন প্রকল্পে বাজারের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।












