বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে পালাবদলের পর আগের সরকারের সমস্ত প্রকল্পগুলি চালু থাকবে কিনা এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল রাজ্যবাসীর মনে। বিজেপি সরকার গঠন হতেই জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে সরকারের তরফে জানানো হয় আগের সরকারের কোন প্রকল্পই বন্ধ করা হচ্ছে না বরং সেগুলিতে কিছু পরিবর্তন এনে চালু রাখা হবে। এদিন নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal) জানিয়েছেন, ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রকল্প চলতি মাসের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কী জানালেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)?
আগামী মাস থেকেই ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা বন্ধ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা সংক্রান্ত কিছু খাতের বরাদ্দও আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিন বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা অধিনস্ত ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া সহায়তা প্রকল্প আগামী মাস থেকে বন্ধ। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার পাবেন। অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের আবেদনের জন্য শীঘ্রই পোর্টাল চালু হবে। যাঁরা CAA-এর জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার পাবেন। যাঁরা ট্রাইবুন্যালে আবেদন করেছেন তাঁরা অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার পাবেন।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। সেই কারণেই সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তদন্ত ও পর্যালোচনার পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।
প্রসঙ্গত, গত বছর অগাস্ট মাসে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তোলে অল বেঙ্গল ইমাম মোয়াজ্জেম অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি ছিল, ভোটের আগে ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও পরে আর সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর অনুদান বাড়লেও ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের জন্য কোনও অতিরিক্ত সুবিধা ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছিল সংগঠনটি।
তবে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেছে প্রশাসন। মাদ্রাসার পড়ুয়াদের জন্য চালু থাকা স্কলারশিপ প্রকল্প এবং সংখ্যালঘু দফতরের শিক্ষাবৃত্তি চালু থাকবে। অর্থাৎ পড়াশোনার জন্য যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তা আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে যাঁরা নিয়মিত ভাতা পেতেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন, DA নিয়ে কী ঘোষণা? বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠকে
মাদ্রাসা বা সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের আওতায় ধর্মীয় কারণে দেওয়া ভাতা যেমন বন্ধ হচ্ছে, তেমনই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে পুরোহিতদের দেওয়া অনুদানও আগামী মাস থেকে আর মিলবে না। নতুন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।













