বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় এবার বাড়তে চলেছে বিদেশী পর্যটকদের (Foreign Tourist) সংখ্যা। এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই এবার দেশ-বিদেশের একাধিক সংস্থার সাথে আলোচনায় বসছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। একইসাথে জোর দেওয়া হচ্ছে পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ আনার দিকেও। এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে বৃহস্পতিবার পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Tourism Minister Shankar Ghosh) অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন।
পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশী বিনিয়োগ
পর্যটনমন্ত্রীর কথায়, ‘বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক একটি কোম্পানি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছে এবং তারা হসপিটালিটি তথা আতিথেয়াতার খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন। তারা মূলত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় হোটেল গড়তে আগ্রহ দেখিয়েছেন।’ বলাইবাহুল্য আগামী দিনে বাংলায় যদি এই ধরনের বিনিয়োগ সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে তা নিঃসন্দেহে রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে।
এর আগেই সুন্দরবন এলাকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের (Kruger National Park – Wikipedia) মতো আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য যদি বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করতে পারে, তবে সুন্দরবনের মতো প্রতীকী স্থানগুলোরও তা করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বাসঘাতক শিবিরে কম্পিটিশন, ১২ জনের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে ৭ জন, বিস্ফোরক দাবি কুণালের
তাঁর কথায়, ‘মাত্র এক বছরের মধ্যে পুরুলিয়াতেই বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ লাখ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে রাজ্যের। আমরা দেশি ও বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য উচ্চমানের অভিজ্ঞতা তৈরির পাশাপাশি, পর্যটনকে সবার জন্য সহজলভ্য রাখার চেষ্টা করছি।’
সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে রাজ্যে মোট ৩১ লক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটেছিল, যা তুলনামূলক ভাবে ২০২৩ সালের ২৭ লক্ষের থেকে বেশি। তাই আগামী দিনে বাংলাকে একটি শীর্ষস্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার “এক্সপেরিয়েন্স বেঙ্গল ২.০” (Experience Bengal 2.0) নামে একটি গন্তব্য ব্র্যান্ডিং ও বিপণন উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এছাড়াও রাজ্য সরকারের তরফে আইআইটি খড়গপুরের সহযোগিতায় একটি পর্যটক তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা করছে। যার মাধ্যমে বাংলায় আসা পর্যটকদের আচরণ, পছন্দ ও ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণ কবা হবে।
অন্যদিকে পর্যটন খাতে রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের চরম উদাসীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘পূর্ববর্তী সরকার পর্যটন খাতকে রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে গণ্যই করত না। তবে, আমরা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছি। দুর্গাপূজা নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই সময়ে বাংলায় বিদেশি পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’













