তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল বিরোধী মন্তব্য, পাঁচ মুখপাত্রকে নিয়ে ‘অ্যাকশন’ ঘাসফুলের

Published on:

Published on:

Trinamool Congress 'action' against five spokespersons for anti-party comments
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে শুরু হয়েছে দ্বন্দ। ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের একাধিক মুখপাত্র ও নেতা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার পাঁচ মুখপাত্রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল ঘাসফুল শিবির।

কাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিল তৃণমূল (Trinamool Congress) ?

দলীয় সূত্রের খবর, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে দল বিরোধী মন্তব্য করার
কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁরা সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দলের মুখপাত্রদের এমন মন্তব্যের পরই তৃণমূল দলের শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির তরফে ডেরেক ও ব্রায়েন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের ভোটে কার্যত ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। যেখানে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে তৃণমূল থেমে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে। এই ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের ভেতরে দায় চাপানো শুরু হয়েছে। দলের একাংশের অভিযোগ, সংগঠনের বদলে অতিরিক্ত কৌশলনির্ভর রাজনীতির ফলেই এই বিপর্যয়।

বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু বরিষ্ঠ নেতারা। কেউ কেউ আবার অভিযোগ তুলেছেন, সাধারণ কর্মীদের থেকে দূরে সরে গিয়ে দল কর্পোরেট ধাঁচে পরিচালিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কিছু মুখপাত্র প্রকাশ্যে বিজেপির প্রশংসা করতে শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, ঋজু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির রাজনৈতিক আচরণের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে ক্ষমাপ্রার্থনাও করেন তিনি। সেই ঘটনাকে ঘিরেই দলের অন্দরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Trinamool Congress 'action' against five spokespersons for anti-party comments

আরও পড়ুন :জল্পনার অবসান! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, থাকবে না কোনও উপ মুখ্যমন্ত্রী

এদিকে পরাজয়ের আবহে দল ছাড়ার জল্পনাও মাথাচাড়া দিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির মতো নেতাদের নাম ঘিরেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।‌ সব মিলিয়ে ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল এখন কঠিন সাংগঠনিক সংকটের মুখে। প্রকাশ্য বিক্ষোভ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছেন দলের নেতা কর্মীরাই।