বাংলা হান্ট ডেস্কঃ উত্তর দমদমে বছরের পর বছর ধরে পানীয় জলের সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে মানুষকে। বিশেষ করে গরমের সময় অবস্থা এমন হত যে অনেকেই বাধ্য হয়ে জল কিনে খেতেন। সেই পুরনো সমস্যা সমাধানে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (Trinamool Congress)। সূত্রের খবর, প্রায় ২০০ কোটির একটি বড় জল প্রকল্পের কাজ শেষের পথে, আর সব ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে পর্যাপ্ত জল।
উত্তর দমদম জল প্রকল্প তৃণমূলের (Trinamool Congress)
উত্তর দমদম এলাকায় বহুদিন ধরেই পানীয় জলের ঘাটতি ছিল একটা বড় সমস্যা। বাম আমল থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম জল পেতেন বাসিন্দারা। প্রতি বছর গরম পড়লেই সেই সমস্যা আরও বেড়ে যেত। অনেক জায়গায় নিয়ম করে জল ছাড়া হলেও তা ঠিকমতো পৌঁছাত না, আবার কোথাও খুব কম চাপের জল আসত।
উত্তর দমদম পুরসভায় মোট ৩৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪৬.০৬ মিলিয়ন লিটার জলের প্রয়োজন হলেও, সেই চাহিদার অর্ধেকও পূরণ হত না। ২০১৪ সালে কেএমডিএ-র মাধ্যমে একটি জল প্রকল্প শুরু হলেও, সেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৬.৫৩ এমএলডি জল মিলত। সমস্যা আরও বাড়ত গরম বা ঠান্ডার সময়, যখন সেই সরবরাহ কমে যেত প্রায় ৫-৬ এমএলডি। ফলে অনেক জায়গায় জল এলেও তা ছিল খুবই কম, সরু সুতোর মতো।
৬, ৯, ২৩, ২৫ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যেত। নিউ বারাকপুরেও প্রায় একই অবস্থা ছিল। এই পরিস্থিতি বদলাতে রাজ্য সরকার (Trinamool Congress) নতুন করে বড় জল প্রকল্প হাতে নেয়। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্যোগে পানিহাটি থেকে গঙ্গার জল তুলে তা শোধন করে উত্তর দমদম ও নিউ বারাকপুর এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাইপলাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এই প্রকল্পে উত্তর দমদমের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা এবং নিউ বারাকপুরের জন্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট খরচ প্রায় ২০০ কোটির কাছাকাছি। যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে আগামী দু’মাসের মধ্যেই এই প্রকল্প চালু হতে পারে। প্রকল্প চালু হলে উত্তর দমদমে প্রতিদিন আরও ৩৭.৮৫ এমএলডি জল মিলবে। ফলে মোট জল সরবরাহ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৪.৩৮ এমএলডি, যা বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

আরও পড়ুনঃ প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড নিরাপত্তা! ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোথায় কত? দেখুন তালিকা
এই প্রকল্পকে সামনে রেখেই ভোটের প্রচারে নেমেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তারা কথায় নয়, কাজেই বিশ্বাস করেন এবং এই প্রকল্পই তার প্রমাণ। অন্যদিকে বিরোধীরা এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিজেপি প্রার্থী সৌরভ শিকদার দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও এত দেরি কেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। সিপিএম নেতা শিবশংকর ঘোষও মনে করছেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষেবা বাড়ানোর কথা আগেই ভাবা উচিত ছিল।












