বাংলা হান্ট ডেস্ক : নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস গড়ে তুলতে কলকাতা পুরনিগমের (Kolkata Municipal Corporation) পক্ষ থেকে নীল ও সবুজ রঙের বালতি বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পের বিপুল সংখ্যক বালতি এবার উদ্ধার হল বেহালার একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের (Trinamool Congress) কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।
বালতি দুর্নীতিতে নাম জড়াল তৃণমূলের (Trinamool Congress)
সরকারি সম্পত্তি কীভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে না পৌঁছে অন্যত্র জমা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রবিবার সকালে রায়বাহাদুর রোড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিতে অস্বাভাবিক পরিমাণ বালতি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সম্পাদক তারক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খবর দেওয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
তারক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিং ওই বালতিগুলি কোম্পানির মালিকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, নাগরিকদের হাতে পৌঁছনোর কথা ছিল যে সরকারি সামগ্রী, তা কীভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জমিতে বছরের পর বছর পড়ে রইল?
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এক কর্মীর দাবি, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে কাউন্সিলর তাঁদের কাছে বালতিগুলি রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, এত সংখ্যক বালতি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই সাময়িকভাবে সেখানে রাখা হচ্ছে এবং পরে প্রয়োজনমতো বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ঘটনার পর বিজেপি নেতৃত্ব বেহালা থানায় বিষয়টি জানিয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরনিগমের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে, কারণ ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সিং পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কৃষ্ণা সিং ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তাঁর ভাই অমিত সিং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাঁদের বাবা তারক সিংহ ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

আরও পড়ুন : রাস্তায় নোংরা করলেই গুনতে হবে টাকা! নতুন নিয়মে কী কী থাকছে? জানালেন অগ্নিমিত্রা
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি কাউন্সিলর ও বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি বলেন, “এরা কত কিছু চুরি করে। এবার বালতি চোর। এরা চুরি বন্ধ করতে পারছে না। শেষে বালতি বেচে খেতে হবে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।” উদ্ধার হওয়া বালতিগুলি সেখানে কেন রাখা হয়েছিল, সেগুলি আদৌ বিতরণের জন্য মজুত ছিল নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল— সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের উপর নির্ভর করছে।













