বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে প্রচারে নতুনত্ব আনতে আবারও নতুন পথে হাঁটছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়, এবার প্রতিটি এলাকার সমস্যা অনুযায়ী আলাদা করে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দল। মূলত বিজেপির চার্জশিট রাজনীতির পাল্টা দিতেই এই নতুন কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ দিয়ে স্থানীয় প্রতিশ্রুতিতে জোর তৃণমূলের (Trinamool Congress)
প্রচারে নতুনত্ব আনা তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) পুরনো অভ্যাস। ‘খেলা হবে’ স্লোগান থেকে শুরু করে সাপ-লুডোর মতো প্রচার, সবই আগে নজর কেড়েছে। এবার সেই ধারাতেই নতুন সংযোজন ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’। রাজ্যের মোট ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই স্তম্ভ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভে ওই এলাকার জন্য ১০টি করে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি লেখা থাকবে। যেমন- রাস্তা, সেতু, পানীয় জল বা এলাকার জরুরি সমস্যা যেগুলো মানুষ প্রতিদিনের জীবনে অনুভব করেন, সেগুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ১৫ বছরের শাসন নিয়ে ১৫ দফার চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন। পরে জেলাস্তরেও তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বিজেপি। তারই জবাবে এবার সরাসরি মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল।
দলের (Trinamool Congress) দাবি, এভাবে প্রকাশ্য জায়গায় প্রতিশ্রুতি লিখে রাখা দেশে এই প্রথম। কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু স্তম্ভে খোদাই করা থাকলে সেটা অনেকদিন চোখে পড়বে। এতে মানুষের বিশ্বাসও বাড়বে বলে মনে করছে দল।
ইতিমধ্যেই প্রথম দফার নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে এই স্তম্ভ বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এর আগে রাজ্যস্তরে ১০টি বড় প্রতিশ্রুতিও ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন সপ্তম পে কমিশন, বকেয়া ডিএ মেটানো, দুয়ারে চিকিৎসা ইত্যাদি।
এর পাশাপাশি তৃণমূল আগে সাপ-লুডো বোর্ডও বানিয়েছিল বিজেপিকে কটাক্ষ করে। সেখানে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পকে ‘সিঁড়ি’ হিসেবে দেখানো হয়, আর বিজেপির বিভিন্ন পদক্ষেপকে ‘সাপ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। দলের মতে, এতে বোঝানো হয়েছে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যায়, আর কিছু সিদ্ধান্ত সেই উন্নয়নে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ ভোটের ১১ দিন আগে রাজ্যে বড় পদক্ষেপ কমিশনের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নতুন ভাবনা আসলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা। এখন দেখার, তৃণমূলের (Trinamool Congress) এই কৌশল ভোটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।












