হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দু’জনকে বাংলাদেশে ফেরাতে কূটনৈতিক আলোচনা! কী দাবি পুলিশের?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের (Osman Hadi Murder Case) তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। এই মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে  গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ পুলিশের। বাংলাদেশের আইজি আলি হোসেন ফকির জানান, ধৃত ২ যুবককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি কার্যকলাপ শুরুর চেষ্টা চলছে। এর আগেএ এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতার নাম ঘোষণা করেছি ঢাকা পুলিশের। পুলিশের তরফে জানানো হয় যে, ঢাকার প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির পরিকল্পনাতে পুরো ঘটনাটি ঘটে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডে (Osman Hadi Murder Case) ধৃত দু’জনকে বাংলাদেশে ফেরানোর তৎপরতা

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা পুলিশ দাবি করেছিল, ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর মূল অভিযুক্ত ফয়সল করিম এবং তার সহযোগী বাইকচালক আলমগির হোসেন ভারতে পালিয়ে যায়। তাঁদের ধরতে গিয়ে মেঘালয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। যদিও মেঘালয় পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ পরে সেই দাবি অস্বীকার করে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের নাম ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন এবং এর ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহে বিদ্যুৎ বিপর্যয় বাংলাদেশে! পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ

একাধিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক সম্প্রতি ভারত সফর করেন। সেই সফরের সময় তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। জানা গেছে, ইউনুস সরকারের বিদায়ের পর ফয়সল করিম ও আলমগির নাকি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সেই সময় তারা সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অবস্থান করছিল বলে সন্দেহ করা হয়। এরপরই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এই দুই অভিযুক্তকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর বাংলাদেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং তৎকালীন সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলি ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসাবশেষে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। এ সময় ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার অফিসেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

Two people arrested in India in the Osman Hadi Murder Case.

আরও পড়ুন: চিনের বাড়বে চিন্তা! হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভারত-জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া

এই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় ভারতবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনেও হামলার চেষ্টা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শেখ হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় ওসমান হাদি ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান তুলেছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ফেসবুকে ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্রও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ভারতের কয়েকটি অঞ্চলকে আলাদা দেখানো হয় এবং কিছু অংশকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে হাদি হত্যার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল কিছু গোষ্ঠী, এমনকি তাঁর বোনও দাবি করেছিলেন যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।