বাংলা হান্ট ডেস্ক: ব্যর্থতা যে শেষ কথা নয়, বরং সাফল্যের (Success Story) পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন উমেশ গণপত। দ্বাদশ শ্রেণীতে ইংরেজিতে ফেল করা এক গ্রাম্য কিশোর থেকে আজ তিনি একজন আইপিএস অফিসার। এক সময় স্কুল ছেড়ে সাইকেলে দুধ বিক্রি করতেন, বাবাকে কৃষিকাজে সাহায্য করতেন। প্রত্যাখ্যান, আর্থিক সঙ্কট ও একের পর এক ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি হার মানেননি। বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
উমেশ গণপতের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ত্র্যম্বকেশ্বরের কাছে মহিরাবানি গ্রামের বাসিন্দা উমেশ। গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবাও দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। ২০০১ সালে তিনি একটি বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হন এবং দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ হন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। হতাশ হয়ে স্কুল ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন এবং বাবার সঙ্গে দুধ সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে নেমে পড়েন।
আরও পড়ুন: পহেলগাঁও হামলার ‘ক্ষত’ সরিয়ে ১০ মাস পর খুলছে ভূস্বর্গের ১৪ টি পর্যটনস্থল, রইল তালিকা
প্রতিদিন ভোরে গ্রাম থেকে দুধ সংগ্রহ করে সাইকেলে নাসিক শহরের বাজারে নিয়ে যেতেন তিনি। মাঠে কাজ, ভারী জিনিস বহন—সবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই সময়ই নাসিকে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের দেখে তাঁর মনে নতুন স্বপ্ন জাগে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন পড়াশোনা ফের শুরু করবেন। ভর্তি হন যশবন্তরাও চবন মহারাষ্ট্র উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এ এবং ২০০৫ সালে দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ হন। পরে পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, বিএড ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর লক্ষ্য স্থির করেন দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার। UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি দিল্লি পাড়ি দেন। ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুইবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। কিন্তু তৃতীয় প্রচেষ্টায়, ২০১৪ সালে তিনি সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ৭০৪ অর্জন করেন। সেই সাফল্যের ভিত্তিতে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে নিয়োগ করা হয়। দ্বাদশ শ্রেণীতে ফেল করা সেই যুবকই হয়ে ওঠেন নিজের গ্রামের প্রথম আইপিএস অফিসার।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের সংযমের প্রশংসা! মার্কিন সেনাকর্তার বার্তায় অস্বস্তি পাকিস্তানের
উমেশ গণপতের জীবনকথা আজ বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সাময়িক ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন—এই যাত্রা প্রমাণ করে, স্বপ্ন বড় হলে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই বাধ্য।












