‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের সংযমের প্রশংসা! মার্কিন সেনাকর্তার বার্তায় অস্বস্তি পাকিস্তানের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে আমেরিকার সামরিক মহল থেকে এ বার প্রকাশ্যে প্রশংসা শোনা গেল। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে পাপারো ভারতীয় সেনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সামরিক অভিযান যে কোনও শান্তিপ্রিয় দেশের কাছে উদ্বেগের কারণ হলেও ভারত যে সংযম ও কৌশলগত আত্মনিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এ ভারতের সংযমের প্রশংসা মার্কিন সেনাকর্তার

রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ‘Operation Sindoor’-এর প্রসঙ্গ উঠতেই পাপারো বলেন, সংঘাতের পরিস্থিতিতে সংযম দেখানোই প্রকৃত শক্তির পরিচয়। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বা চিনা সামরিক সরঞ্জামের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান। তবে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকা এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, ভারতীয় সেনার কৌশলগত পরিকল্পনা ও আত্মদর্শন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশংসার দাবি রাখে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে মোক্ষম ঝটকা ভারতের! এবার পড়শি দেশে প্রবাহিত হবে না এই নদীর অতিরিক্ত জল

চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মার্কিন এই সেনাকর্তা। নাম না করলেও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে পাপারো বলেন, ভারত ও আমেরিকার স্বার্থ বহু ক্ষেত্রে অভিন্ন। বিশেষ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই অঞ্চল বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং মোট জিডিপির ৬০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলে অবস্থিত। উপরন্তু, বিশ্বের শীর্ষ ১০ সামরিক শক্তির মধ্যে সাতটি দেশের অবস্থান এখানেই। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

US military chief praises India's restraint in 'Operation Sindoor'

আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশের চেষ্টা? ভারতের জলসীমায় ২৮ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী! কড়া অ্যাকশন কোস্ট গার্ডের

পাপারো আরও বলেন, কেবল সামরিক নেতাদের নয়, নীতিনির্ধারকদেরও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সম্ভাব্য যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সামরিক স্তরে ভারতের প্রতি এই প্রকাশ্য সমর্থন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।