বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানকে মোক্ষম জবাব ভারতের (India)। ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হবে না বলে জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের জলসম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। তাঁর দাবি, ৩১ মার্চের মধ্যেই সীমান্তবর্তী শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে। জম্মু ও কাশ্মীর ও পঞ্জাবের সীমানায় তৈরি হওয়া এই বাঁধ চালু হলে ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। বর্তমানে মাধোপুর নালার মাধ্যমে যে জল পাকিস্তানে গিয়ে থাকে, তা আটকানোরই লক্ষ্য এই প্রকল্পের।
পাকিস্তানকে মোক্ষম ঝটকা ভারতের (India)!
গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত-পাক সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়। পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিদের নাম জড়ানোয় নয়াদিল্লি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। সেই প্রেক্ষাপটে ইরাবতীর জল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। রানা বলেন, কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা দীর্ঘদিন ধরেই খরাপ্রবণ এলাকা, তাই এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না।”
আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশের চেষ্টা? ভারতের জলসীমায় ২৮ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী! কড়া অ্যাকশন কোস্ট গার্ডের
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর জল ভারতের জন্য নির্ধারিত, আর পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চন্দ্রভাগার উপর চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। অনুমান, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে সেগুলি চালু হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন মেলে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রায় ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। বাঁধ নির্মিত হলে পঞ্জাবে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বহুদিন ঝুলে থাকা ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইরাবতী খালকেও তখন পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: কীর্ণাহারে পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার তাজা বোমা, ভোটের আগে ফের তপ্ত বীরভূম!
এই প্রকল্পের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৭৯ সালে পঞ্জাব ও জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের মধ্যে চুক্তি হলেও অর্থাভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ থমকে যায়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিংহ রাও শিলান্যাস করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। অবশেষে ২০১৮ সালে দুই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমঝোতার পর কাজ গতি পায়। প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে উত্তর ভারতে জলব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












