বাংলাহান্ট ডেস্ক: এত চেষ্টা করেও থামানো যাবে না যুদ্ধ? দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার (US-Iran Peace Talk) পরও কোনও রফাসূত্র না মেলায় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ভেস্তে গেল ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক। খালি হাতেই ওয়াশিংটনে ফিরতে হল মার্কিন প্রতিনিধি দলকে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক থেকেই সমাধানের আশা করা হচ্ছিল।
ইসলামাবাদে ভেস্তে গেল আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা (US-Iran Peace Talk):
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঠিক কী কারণে ভেস্তে গেল তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। তবে সূত্রের খবর, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই মূলত মতপার্থক্য দেখা দেয় দুই দেশের মধ্যে। জানা গিয়েছে ইসলামাবাদে সাংবাদিক বৈঠকে ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের একাধিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এই মর্মে তেহরানের তরফ থেকে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:একদিনে তিন তিনটি অভিযান, ভোটের আগে কলকাতায় উদ্ধার বিপুল নগদ
ভ্যান্স আরও বলেন, বৈঠকে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা কী চাই না চাই, তা পরিষ্কার জানিয়েছি। তবুও কোনওরকম সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।” তাঁর কথায়, আলোচনার পুরো সময়জুড়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং ইরানের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।
আমেরিকার দাবি, তারা ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বা প্রযুক্তি হাতে না রাখার আশ্বাসও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি, ফলে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
আরও পড়ুন: পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে রাহানেরা! KKR-কে জেতাতে দলে ‘এন্ট্রি’ নিচ্ছেন ১৮ কোটির খেলোয়াড়
অন্যদিকে, ইরানের তরফে এই বৈঠক (US-Iran Peace Talk) ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি আমেরিকাকেই দায়ী করা হয়েছে। তেহরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’-র কারণেই আলোচনায় কোনও সমাধান মেলেনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, নিজেদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করতেই তারা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় অংশ নেয়। তবে, একাধিক প্রস্তাব সত্ত্বেও মার্কিন অবস্থানের জেরে শেষ পর্যন্ত এই শান্তি উদ্যোগ ভেস্তে যায়, যা নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।













