ভারতের জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমতুল্য মর্যাদা ও আইনি কাঠামো দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নেতৃত্বে সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মূলত জাতীয় সঙ্গীতের জন্য প্রযোজ্য সম্মান ও আচরণবিধি জাতীয় স্তোত্রের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক গানের মর্যাদা সুসংহত করে তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা।
জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা পাবে বন্দেমাতরম (Vande Mataram)!
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব। এছাড়াও জাতীয় সঙ্গীতের মতোই স্তোত্র গাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক এবং তা লঙ্ঘন করলে আইনি শাস্তির বিধান প্রণয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। এই উদ্যোগ জাতীয় স্তোত্রের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান বাড়াবে বলে মত সরকারি মহলের।
আরও পড়ুন: AI সেক্টরে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে দেশ! ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ খোদ IMF প্রধান
১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গানটি পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায়। ১৮৯৬ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এটি পরিবেশন করলে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে। বর্তমানে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চলছে, যা জাতীয় স্তরে এর ঐতিহ্যকে পুনরায় সক্রিয় করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেরই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ বলে দেখছেন।
তবে এই উদ্যোগ রাজনৈতিক বিতর্ককেও পুনরায় সক্রিয় করেছে। সংসদে বিজেপি সরকার দাবি করেছে, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে বন্দে মাতরমের কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরোক্ষভাবে দেশভাগের মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। অপরদিকে কংগ্রেস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলিকে মাথায় রেখেই জাতীয়তাবাদের এই প্রতীকটিকে কেন্দ্র করে আবেগকে সংহত করতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল।

আরও পড়ুন: পরবর্তী রাজ্য পুলিশের ডিজি হতে চলেছেন কে? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ
বর্তমানে ভারতের সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বন্দে মাতরমকেও সমমর্যাদা দেওয়া হলেও, এর জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি বা অবমাননার জন্য কঠোর আইনি বিধান নেই। জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার মতোই স্তোত্রের অবমাননার জন্য স্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, এই পদক্ষেপ কীভাবে নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখবে এবং এটি ভবিষ্যতে নতুন কোনও সাংবিধানিক বা আইনি বিতর্কের জন্ম দেবে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।












