বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল চিন (China)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, পড়শি দেশ চিনে মূল্যবান ধাতুর বিশাল ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে। মূলত, চিন সোনা, নিকেল এবং রেনিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দুর্লভ ও মূল্যবান ধাতুর (Mineral Reserves) ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক রিপোর্ট অনুসারে, দেশজুড়ে খনিজ সম্পদের একটি নতুন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সমীক্ষার ফলে সোনা (Gold), নিকেল এবং রেনিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজসহ চিনের কৌশলগত সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রকের তথ্য থেকে দেখা যায় যে, এই নতুন অনুসন্ধান দেশটির খনিজ শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রকের তথ্যকে উদ্ধৃত করে সিনহুয়া জানিয়েছে, চিনের রেনিয়াম মজুত ২০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রেনিয়াম কোনও সাধারণ ধাতু নয়। এটি উচ্চ-তাপমাত্রা প্রতিরোধী সুপারঅ্যালয় তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। যা জেট ইঞ্জিনের অপরিহার্য যন্ত্রাংশ বানাতে কাজে লাগে।
চিনে (China) গুপ্তধনের ছড়াছড়ি!
জানিয়ে রাখি যে, চিনে সোনার ভাণ্ডার ৫০ টি বড় খনির সমপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিন নিকেলের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। যার ভাণ্ডার ৩০টি বড় খনির সমপরিমাণ। এছাড়াও, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম, ট্যান্টালাম এবং ভ্যানাডিয়ামের ভাণ্ডারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চারটি খনিজের প্রত্যেকটির ভাণ্ডার ১০ টি বড় খনির সমপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে নিম্নমানের বা ব্যবহারে কঠিন বলে বিবেচিত মাইনগুলিকে পুনঃপরীক্ষা করার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এক বছরব্যাপী অভিযানে ১৮০০-র বেশি খনি সার্ভে করা হয়েছিল: উল্লেখ্য যে, এটি কোনএ ছোটখাটো সার্ভে ছিল না। পুরো এক বছর ধরে চলা এই প্রকল্পটি চিনের ১৭ টি কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর দৃষ্টিনিক্ষেপ করেছিল। ওই সময়কালে দেশজুড়ে ১৮০০ টিরও বেশি সক্রিয় খনির পাশাপাশি বড় থেকে মাঝারি আকারের খনি এলাকাগুলি অনুসন্ধান করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: চিনে গুপ্তধনের ছড়াছড়ি! ৫০ টি বড় খনির সমপরিমাণ সোনার খোঁজ, মাটির নিচে মূল্যবান ধাতুর বিশাল ভাণ্ডার
এই সম্পূর্ণ অভিযানটি সম্পন্ন করতে ১০০ টিরও বেশি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করেছে। চিনের ২৭ টি প্রদেশ, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং পৌরসভা জুড়ে প্রায় ২,০০০ কর্মী এই তথ্যগুলি সংগ্রহ করতে দিনরাত কাজ করেছেন। পুরোনো খনিতে চাপা পড়া উপজাত দ্রব্যগুলির নতুন মূল্যায়নের মাধ্যমেই এমন বিশাল এক গুপ্তধন উন্মোচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: LPG সিলিন্ডার থেকে GST! ১ নভেম্বর থেকে এই ৫ ক্ষেত্রে হচ্ছে পরিবর্তন, ফের টান পড়বে পকেটে?
জিনজিয়াং-এর নতুন আবিষ্কার বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাবে: সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশব্যাপী অনুসন্ধানের পাশাপাশি চিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও অর্জন করেছে। সিনহুয়ার মতে, জিনজিয়াং প্রদেশের বাইচেং এলাকায় দেশের প্রথম ‘প্যালিওফ্লুভিয়াল-লেকাসট্রাইন জিরকন প্লেসার’ (পুরনো নদী বা হ্রদের পলিতে জমা হওয়া জিরকন) ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে। এই নতুন আবিষ্কার চিনের অভ্যন্তরীণ জিরকন সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। চিন দীর্ঘদিন ধরে জিরকনের জন্য বিদেশি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যা থেকে জিরকোনিয়াম খনিজটি তৈরি হয়। জিরকোনিয়াম পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি দণ্ডের আবরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি উচ্চ-তাপমাত্রা-সহনশীল অ্যারোস্পেস অ্যালয় উৎপাদনের জন্যও অপরিহার্য।












