৫০,০০০ থেকে ফলোয়ার বেড়ে ৫৮ লক্ষ! বিশ্বকাপে স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়লেন ভোজিনহা

Published on:

Published on:

Vozinha made history in the match against Spain at the World Cup.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা মেতে রয়েছেন বিশ্বকাপ নিয়ে। যেখানে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তৈরি হচ্ছে দুর্ধর্ষ সব নজির। তবে, এই আবহেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে স্পেন বনাম কেপ ভার্দের ম্যাচটি। যেখানে রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও প্রমাণ করেছেন যে ফুটবলে স্বপ্নের কোনও বয়স হয় না। একটা সময়ে যাঁকে ফুটবল মাঠে অন্য ছেলেরা জ্বালাতন করত, পরাজয়ের সম্মুখীন হলে দাদু-দিদার কাছে ফিরে আশ্রয় নিতেন, সেই লড়াকু খেলোয়াড়ই সমগ্র বিশ্বের কাছে হয়ে উঠলেন দৃষ্টান্ত। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর লড়াইয়ের মাধ্যমে ২০২৬-এর ফিফা বিশ্বকাপে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে থামিয়ে দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ২০২৬-এর ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কেপ ভার্দে স্পেনকে ০-০ গোলে ড্র করিয়ে এক বড় অঘটন ঘটিয়েছে। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের সবচেয়ে বড় নায়ক হলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। যিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্প্যানিশ ভক্তদের হতাশ করেছেন।

স্পেন ২৭ টি শট নিয়েছিল, কিন্তু ভোজিনহা (Vozinha) ছিলেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর:

ওই রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন বলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল এবং গোলপোস্টে ২৭টি শট নিয়েছিল। তারকাখচিত স্পেনের দলটি ক্রমাগত কেপ ভার্দের রক্ষণ ভেদ করার চেষ্টা করছিল। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও খেলোয়াড়ই ভোজিনহার প্রাচীর ভাঙতে পারেনি। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক মোট ৭ টি দুর্দান্ত সেভ করেন এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দলের ঐতিহাসিক পয়েন্ট অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভোজিনহা মোট ৭ টি সেভ করে বিশ্বকাপ অভিষেকেই ক্লিন শিট রাখা সব থেকে বয়স্ক গোলরক্ষক হিসাবে রেকর্ড গড়েন।

ম্যাচ শেষ হতেই চোখে জল আসে: ম্যাচ শেষ হওয়ামাত্রই ভোজিনহা তাঁর গোলপোস্টের কাছে ঝুঁকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর সতীর্থরা তাঁকে জড়িয়ে ধরতে ছুটে আসেন। এই দৃশ্য দেখে স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকেরাও প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে দুর্ধর্ষ রেকর্ড ভারতের! চমকে দেবে মে মাসের পরিসংখ্যান

প্রফেশনাল কোরিয়ার শুরু হয় ১৫ বছর আগে: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, ভোজিনহা ২৫ বছর বয়সে অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসোর হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন। পরবর্তীতে তিনি মলদোভা থেকে। শুরু করে সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া এবং পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলছেন। ২০১২ সালে তিনি কেপ ভার্দে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। অনেকবার তিনি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর সেই লড়াই জারি রেখেই সমগ্র বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীদের মন জয় করলেন তিনি।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের উত্তেজনা সামলেই বাণিজ্যে বাজিমাত ভারতের! রফতানিতে বিপুল বৃদ্ধি, চমকে দেবে পরিসংখ্যান

ফলোয়ারের সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে বেড়ে ৫৮ লক্ষে পৌঁছেছে: ওই একটি ম্যাচেই ভোজিনহার জনপ্রিয়তা যে কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা প্রমাণ করেছে ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা। ম্যাচটির আগে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার প্রায় ৫০,০০০ ফলোয়ার ছিল। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে তাঁর আকর্ষণীয় পারফরম্যান্স তাঁকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা বানিয়ে দেয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তার ফলোয়ার সংখ্যা ১৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৮ লক্ষ।