বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে ফের নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল হওয়া ক্যাগ (CAG) বৈঠকে কর্মচারী সংগঠন ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। তাঁদের দাবি, ডিএ হিসেব করার ক্ষেত্রে নানা গরমিল রয়েছে এবং অনেক কর্মচারী এখনও প্রকৃত প্রাপ্য টাকা পাননি। বৈঠকে মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই সব বিষয় নিয়েই এখন কর্মচারীদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।
ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়া নিয়ে CAG বৈঠকে উঠল ৯টি বড় বিষয়
বৈঠকে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ, ইউনিটি ফোরাম এবং আইনজীবীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন নথি ও হিসেব দেখিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
১) বকেয়া ডিএ-তে বড় ফারাকের অভিযোগ : প্রতিনিধিদের দাবি, কর্মচারীদের যে পরিমাণ বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পাওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার থেকে অনেক কম টাকা দেওয়া হয়েছে। এই ফারাকের হিসেবও বৈঠকে দেখানো হয়
২) এআইসিপিআই নিয়ম মানার দাবি : বৈঠকে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এআইসিপিআই বা অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স মেনেই ডিএ (Dearness Allowance) হিসেব করা উচিত। কিন্তু সেই নিয়ম পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ ওঠে।
৩) বর্তমান ক্যালকুলেশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন : আইনজীবীদের দাবি, রাজ্য যে পদ্ধতিতে ডিএ (Dearness Allowance) হিসেব করছে, তাতে ভুল রয়েছে। সঠিক নিয়মে কীভাবে হিসেব করতে হবে, সেটাও বৈঠকে ব্যাখ্যা করা হয়।
৪) বেসিক পে ও গ্রেড পে অনুযায়ী হিসেবের দাবি : সংগঠনগুলির বক্তব্য, প্রত্যেক কর্মচারীর বেসিক পে এবং গ্রেড পে ধরেই ডিএ (Dearness Allowance) হিসেব করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম ঠিকমতো মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
৫) এনপিএ প্রাপকদের জন্য আলাদা দাবি : চিকিৎসক বা এনপিএ পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেসিক পে, গ্রেড পে এবং এনপিএ যোগ করে ডিএ (Dearness Allowance) হিসেব করার দাবি জানানো হয়েছে।
৬) গ্রিভেন্স সেল তৈরির প্রস্তাব : ডিএ (Dearness Allowance) হিসেব নিয়ে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে কর্মচারীরা যাতে সরাসরি জানাতে পারেন, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট গ্রিভেন্স সেল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৭) সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার দাবি : কলকাতা হাইকোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখার পরও কেন তা দ্রুত কার্যকর হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে বৈঠকে।
৮) ক্যালকুলেশন শিট জমা : প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত ক্যালকুলেশন শিট জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কত টাকা পাওয়ার কথা ছিল এবং কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণ হিসেব তুলে ধরা হয়।
৯) গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বিষয় : গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে তেমন আলোচনা হয়নি। কারণ তাঁদের কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের আইনি পথে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরে তৃণমূল-বিজেপির সংঘাত! অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রিপোর্ট চাইল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক
এই বৈঠকের পর ডিএ (Dearness Allowance) মামলাকে ঘিরে কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, এবার সঠিক হিসেব সামনে আসায় ভবিষ্যতে বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে। এখন সকলের নজর পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আদালতের দিকেই।












