বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রতিশ্রুতি মতোই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিল-আপ প্রক্রিয়া। টানা তিন মাস চলবে এই প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। তবে অনেকেই আছেন যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের কোনো টাকাই অ্যাকাউন্টে পাননি। কেন এমন হচ্ছে?
অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত আপডেট | Annapurna Yojana
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য রাজ্য সরকার যা ফর্ম এনেছে তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজ্যে। ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম কেন পূরণ করতে হবে সেই নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। যদিও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন,” ১২ পাতার ফর্ম। এগুলো ডেটার জন্য। ফর্ম ফিল-আপ না করতে পারলে যে আপনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না, তা কিন্তু নয়। আগামীদিনে আমরা এরকম আরও প্রকল্প নিয়ে আসছি, সেই জন্য এই ডেটা আমাদের দরকার। যতটা সম্ভব ফিল-আপ করুন, না পারলে লিখে দিন নট অ্যাপ্লিকেবল। বাকিটা আমরা দেখে নেব।”
জানিয়ে রাখি, আবেদনকারীদের সুবিধার্থে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে ফর্ম ফিল-আপে সাহায্য করা হচ্ছে। রবিবার এই ফর্ম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই যোজনায় ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য। ফর্মে প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল ২-৩ দিন। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারের টাকা, জনগণের টাকা, ট্যাক্সের টাকা এভাবে জলে ফেলা যায় না।”
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য https://socialregistry.wb.gov.in/ ওয়েবসাইট আনা হয়েছে। সেখান থেকে অনলাইনে আবেদন করা হচ্ছে। তবে আবেদনের পরও টাকা না ঢুকলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আবেদন সরকারি পোর্টালে আপলোড হওয়ার পরে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে তারপরই টাকা ছাড়া শুরু হবে।
ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ভেরিফিকেশনের জন্য ফোনও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ভেরিফিকেশনে ফর্মে যে সমস্ত তথ্য পূরণ করা হয়েছে তা পুনরায় জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে বেশ কিছুজন আবেদনকারী বলছেন, পুরসভা থেকে ফোন করে আবেদনকারীর কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হচ্ছে, তিনি আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন কিনা।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার পর বার্ধক্য ভাতা নিয়ে আসছে ‘সুখবর’! কত টাকা মিলবে? বড় আপডেট সামনে
পাশাপাশি বর্তমান পেশা, মাসিক আয়, পরিবারের প্রধান কী কাজ করেন এই সমস্ত নানা তথ্যও জানতে চাওয়া হচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে, বাড়িতে কটি ঘর, গাড়ি আছে কিনা, সদস্য সংখ্যা ইত্যাদিও। প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাতে অযোগ্য বা পুরুষ ‘লক্ষ্মীরা’ না পান সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে কড়া যাচাই করা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে যাতে দুর্নীতি না হয় তার জন্য করা হচ্ছে বাড়তি ভেরিফিকেশনও।














