বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। ২০১৬ থেকে ২০১৯, এই চার বছরের বকেয়া ডিএ একবারেই মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই টাকা কাদের কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এবার আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।
কারা কিভাবে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পাবে?
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পুরোপুরি এক কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়া হবে। ২৩ মার্চ জারি হওয়া সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যেই কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং মৃত কর্মীদের পরিবার যারা পেনশন পান সবাই এই বকেয়া টাকার ১০০ শতাংশ পাবেন।
এই টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, মৃত কর্মীর পরিবার এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা হবে। অন্যদিকে গ্রুপ এ, বি ও সি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই টাকা তাঁদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশও এই পর্যায়ে মেটানো হবে। এর আগে বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখন তা কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। আদালত রাজ্যকে ৩১ মার্চের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া (Dearness Allowance) প্রথম কিস্তি হিসেবে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও রাজ্য সরকার সেই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে, যার শুনানি এখনও হয়নি। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টাকা দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরেও সব মহলে সন্তোষ নেই। একাংশ কর্মচারীর অভিযোগ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এখনও বকেয়া DA (Dearness Allowance) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই অভিযোগ নিয়ে নবান্নের বক্তব্য, কারও যদি সমস্যা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে জানাতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জানা গেছে, বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance)-র পরবর্তী কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি কর্মীদের সুবিধার জন্য একটি পোর্টালও চালু করেছে অর্থ দপ্তর। সেখানে লগইন করে প্রত্যেক কর্মী তাঁর প্রাপ্য বকেয়া DA-র অঙ্ক জানতে পারবেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের হিসাব ইতিমধ্যেই সেই পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে তড়িঘড়ি! ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করল কমিশন
এদিকে কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ দাবি করছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব ক্ষেত্রের কর্মীরা এখনও এই সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত ও পুরসভার অধীন কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। তবে তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের দাবি, এই সব অভিযোগ ভুল। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ধাপে ধাপে ডিএ (Dearness Allowance) দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে হিসাব পাঠানো হলেই সব কর্মীই এই সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।












