বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশের পর হঠাৎ করেই অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মনে ভয় ঢুকে যায়। বলা হয়েছিল, চাকরি রাখতে গেলে টেট পাশ করতে হবে। না হলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বহু শিক্ষক। এবার সেই চিন্তা অনেকটাই কমতে চলেছে। কেন্দ্র নতুন শিক্ষা আইনে পরিবর্তন এনে পুরনো শিক্ষকদের (WB Teachers) জন্য টেট বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টেট (WB Teachers) প্রসঙ্গে কি নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট?
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সব কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষককে (WB Teachers) টেট পাশ করতে হবে। যাঁদের চাকরির বয়স ৫ বছরের বেশি বাকি, তাঁদের ২ বছরের মধ্যে টেট পাশ করতে বলা হয়। না হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ছিল। আর যাঁদের ৫ বছরের কম সময় বাকি, তাঁদের টেট দিতে হতো না ঠিকই, কিন্তু পদোন্নতি পেতেন না। এই সিদ্ধান্তের পরই সারা দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে অনেক শিক্ষক চিন্তায় পড়ে যান।
কেন্দ্র কী বদল আনতে চলেছে?
এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকার নতুন আইন আনতে চলেছে। ‘রাইট টু এডুকেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০২৬’-এ বলা হয়েছে যাঁরা আগে থেকেই শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন, তাঁদের আর টেট দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। কেন্দ্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইন পাস হলে কয়েকটা বড় সুবিধা মিলবে। সুবিধাগুলি হল –
- চাকরি নিয়ে ভয় থাকবে না। অর্থাৎ পুরনো শিক্ষকদের (WB Teachers) চাকরি আর ঝুঁকির মধ্যে থাকবে না।
- পদোন্নতিতে বাধা থাকবে না। অর্থাৎ টেট না দিলেও প্রোমোশন বা সিনিয়রিটি ঠিক থাকবে।
- অবসর সুবিধা আগের মতোই থাকবে। সেই অনুযায়ী পেনশন, গ্র্যাচুইটি, সব আগের নিয়মেই পাওয়া যাবে।
নতুন শিক্ষকদের জন্য কী নিয়ম?
কেন্দ্রে তরফে জানানো হয়েছে এই নতুন নিয়ম শুধুমাত্র পুরনো শিক্ষকদের (WB Teachers) জন্য। যাঁরা ভবিষ্যতে শিক্ষক হবেন, তাঁদের জন্য টেট পাশ করা বাধ্যতামূলকই থাকবে।

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে তো? বকেয়া DA নিয়ে ১২ এপ্রিল কালীঘাট অভিযানের ডাক
উল্লেখ্য, মার্চ ২০২৬-এর খসড়া অনুযায়ী, আইনে নতুন একটি ধারা যোগ করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, টেট নিয়ম শুধুমাত্র নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সরকার শিক্ষকদের (WB Teachers) দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আলাদা নিয়ম করতে পারবে, কিন্তু সেটা চাকরির সঙ্গে জড়িত থাকবে না। সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে অনেক দিনের দুশ্চিন্তার পর শিক্ষকরা বড় স্বস্তি পেতে পারেন। এখন শুধু এই বিলটি সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষা।












