ভোট দিতে পারবেন তো? ভোটার তালিকায় নতুন ৩ ক্যাটাগরি, আগে দেখুন নিজের নাম

Published on:

Published on:

WB Voter List Status Explained
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা (WB Voter List) সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা বা SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অনেকের মনেই একটাই প্রশ্ন উঠেছে চূড়ান্ত তালিকায় কি তাঁদের নাম রয়েছে? আদৌ কি ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? ভোটারদের বর্তমান স্ট্যাটাস অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তিনটি আলাদা ক্যাটাগরিতে নাম চিহ্নিত করেছে। আপনার নাম কোন বিভাগে পড়েছে, সেটাই ঠিক করে দেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না।

ভোটারদের তিনটি ক্যাটাগরি, আপনার নাম কোনটিতে (WB Voter List)?

SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী ভোটারদের মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে (WB Voter List)।

১) ফ্রেশ ক্যাটাগরি (Fresh Category) : যাঁদের নামের পাশে বা উপরে কোনও বিশেষ রিমার্কস নেই, তাঁরা ‘ফ্রেশ’ ক্যাটাগরির ভোটার হিসেবে ধরা হচ্ছেন। এই তালিকায় থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে ভোটদানে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ, আপনার নাম যদি স্বাভাবিকভাবে তালিকায় থাকে, তবে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।

২) আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন (Under Adjudication) : এই বিভাগটি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ। যাঁদের নামের পাশে ‘Under Adjudication’ লেখা রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার এখন বিচারাধীন। অর্থাৎ, জমা দেওয়া নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং তা বিচারপতির পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। মূলত নথিপত্রে অসংগতি বা প্রমাণের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুধু আধার কার্ড বা রেশন কার্ড থাকলেই হবে না—নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১১টি নির্দিষ্ট নথির মধ্যে যেকোনও একটির সঠিক প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।

এই তালিকায় থাকা ভোটারদের ভাগ্য এখন বিচারকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। নথি সঠিক প্রমাণিত হলে নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফিরতে পারে। তবে বাস্তবে খুব কম সংখ্যক নামই ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’-এ জায়গা পায়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন যদি নাম বাতিল হয়ে যায়, তাহলে আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।

৩) ডিলিটেড (Deleted) : যাঁদের নাম সরাসরি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা ‘ডিলিটেড’ বিভাগে পড়ছেন। এই অবস্থায় থাকলে সরাসরি ভোট দেওয়া যাবে না। তবে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি সুযোগ—সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।

নাম ডিলিট হলে কী করবেন?

যদি কারও নাম ‘ডিলিটেড’ তালিকায় চলে যায়, তাহলে সাধারণত ১৫ দিনের একটি সময়সীমা থাকে। এই সময়ের মধ্যে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (DM) বা সংশ্লিষ্ট ডিও (DO)-র কাছে কারণ দর্শিয়ে আবেদন করতে হয়।

নাম ফেরানোর জন্য যা করতে হবে—

  • নতুন করে ভোটার হিসেবে আবেদন করতে ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) পূরণ করতে হবে।
  • আবেদনের সঙ্গে সমস্ত বৈধ নথি জমা দিতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাইকরণ করবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

SIR Final Voter List Released in Phases

আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রী কোয়েল তৃণমূলে যোগ দিতেই বড় মন্তব্য ‘সিনিয়র’ শতাব্দীর, বললেন, ও খুব…

নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে জটিলতা এড়াতে নিজের ভোটার স্ট্যাটাস (WB Voter List) এখনই দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নামের পাশে কী লেখা রয়েছে, সেটাই নির্ধারণ করবে আপনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না। যদি কোনও সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে স্থানীয় বিএলও (BLO) বা নির্বাচনী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সঠিক সময়ে সঠিক নথি জমা না দিলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।