বাংলা হান্ট: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) মাধ্যমিক (Madhyamik) ২০২৬-এর উত্তরপত্র মূল্যায়নের সাথে জড়িত শিক্ষকদের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। প্রতি বছরের মতো পর্ষদ পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনিয়ারদের জন্য অন-ডিউটি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে, এই বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজের জন্য বিশেষ ছুটির সুযোগ।
ছুটির ব্যাপারে কী বলছে পর্ষদের নির্দেশিকা?
পর্ষদ বলেছে, যে সকল শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন-সম্পর্কিত কাজের জন্য রবিবার বা সরকারি ছুটির দিনে কাজ করতে হবে, তারা বিকল্প ছুটি পাবেন। সরকারি ছুটির দিনে কাজের জন্য অতিরিক্ত ছুটি পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে প্রায়শই বিভ্রান্তি থাকে। এবিষয়ে পর্ষদ জানিয়েছে যে যদি কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার মতো কাজের জন্য রবিবার বা সরকারি ছুটির দিনে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকেন, তবে তারা ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি পাবেন।
এই নিয়ম প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনিয়ার সকলের জন্য প্রযোজ্য। এই ছুটি অবশ্যই ৩০ এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে নিতে হবে। শিক্ষকদের ছুটির দিনে উপস্থিতির প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে এই ছুটি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনে নেওয়া যাবে না। এটি শুধু পরীক্ষার সময়সূচীর বাইরের কর্ম দিবসে নেওয়া যাবে।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রধান পরীক্ষকদের উপর সর্বোচ্চ দায়িত্ব থাকে। তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১৩ দিনের অন-ডিউটি ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্ষদের মিটিং এর জন্য ১ দিন এবং পরীক্ষকদের মধ্যে উত্তরপত্র বিতরণের জন্য ১ দিন, পরীক্ষকদের কাছ থেকে দুটি কিস্তিতে মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র গ্রহণের জন্য ২ দিন বরাদ্দ করা হয়েছে। যাচাই কাজ অর্থাৎ স্ক্রুটিনির জন্য সর্বোচ্চ ৫ দিন বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও, পর্ষদের অফিসে দুটি কিস্তিতে নম্বর জমা দেওয়ার জন্য ২ দিন এবং অনলাইনে নম্বর আপলোড করার জন্য আরও ২ দিন প্রদান করা হয়েছে। মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশের আগে নম্বর যাচাইয়ের জন্য ১ থেকে ২ দিন এবং ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী পর্যালোচনা ও যাচাই কাজ অর্থাৎ পিপিআর এবং পিপিএসের জন্য ২ দিন ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
সাধারণ পরীক্ষকদের জন্য, ছুটি উত্তরপত্রের সংখ্যা এবং সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার উপর নির্ভর করে বরাদ্দ করা হয়েছে। খাতা সংগ্রহের জন্য ১ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। যেসব শিক্ষক ৭৫টির বেশি খাতা মূল্যায়ন করবে, তারা জমা দেওয়ার জন্য ২ দিন ছুটি অর্থাৎ মোট ৩ দিন পাবেন। যেসব শিক্ষক দের কাছে ৭৫টি বা তার কম খাতা থাকবে, তারা জমা দেওয়ার জন্য ১ দিন অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট ২ দিন ছুটি পাবেন।

আরও পড়ুন: মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়ার পথে সিমরন! সাধারণতন্ত্র দিবসে পুরুষদের CRPF ইউনিটকে দেবেন নেতৃত্ব
অন্যদিকে নিরীক্ষক অর্থাৎ স্ক্রুটিনিয়ারদের জন্য, ছুটির সংখ্যা তাদের বরাদ্দকৃত খাতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০ খাতার জন্য ১ দিন, ৪০০ খাতার জন্য ২ দিন, ৬০০ খাতার জন্য ৩ দিন, ৮০০ খাতার জন্য ৪ দিন, ৮০০-এর বেশি খাতার জন্য ৫ দিন ছুটি বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া স্ক্রুটিনিয়াররা প্রধান পরীক্ষককে অনলাইনে নম্বর আপলোডের কাজে সহায়তা করলে ১ দিন অতিরিক্ত ছুটি পাবেন।













