বাংলা হান্ট ডেস্ক : ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ একাধিক কোর্সে ভর্তি নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত বদল করল পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস বোর্ড (WBJEE)। ফলে ইতিমধ্যেই কলেজে ভর্তি হয়ে যাওয়া পড়ুয়াদের একাংশও এবার নতুন করে পছন্দের প্রতিষ্ঠান বা কোর্সে সুযোগ খোঁজার রাস্তা পেলেন। ২৭ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে আগের নির্দেশিকার সংশোধন করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
কী জানাল পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস বোর্ড (WBJEE)?
বোর্ডের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে ‘সেন্ট্রালাইজড অনলাইন কাউন্সেলিং’-এর মাধ্যমে কোনও কলেজে আসন পাওয়া প্রার্থীরাও ‘কমন অনলাইন ডিসেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিং’-এ আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ আগে কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেও, এই কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকছে না।
এর আগে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, মূল অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে কোনও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যাওয়া প্রার্থীরা আর এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। সেই ব্যবস্থায় মূলত সেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিংয়ে আসন না পাওয়া প্রার্থী এবং ১০+২-এর নম্বরের ভিত্তিতে নতুন করে আবেদনকারীদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
বোর্ডের সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। ইতিমধ্যে ভর্তি হয়ে যাওয়া পড়ুয়ারা যাতে খালি আসনে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ পান, সেই দাবিও সামনে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত আগের নির্দেশিকা সংশোধনের পথে হাঁটল জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তনের কারণও জানিয়েছে বোর্ড। সেখানে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন পক্ষের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস বোর্ড বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, যে সব প্রার্থী ইতিমধ্যে চলতি বছরের ‘সেন্ট্রালাইজড অনলাইন কাউন্সেলিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছেন, তাঁরাও ‘কমন অনলাইন ডিসেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিং’ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।”
অন্যদিকে, পরিবর্তিত কাউন্সেলিংয়ের নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশ করেনি বোর্ড। জানানো হয়েছে, সংশোধিত কাউন্সেলিং-এর সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। একই সঙ্গে কাউন্সেলিংয়ের নতুন সময়সূচিও পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।এবারের এই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, আর্কিটেকচার এবং ফার্মেসির বিভিন্ন কোর্সে অবশিষ্ট আসন পূরণ করা হবে। অর্থাৎ মূল ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যেসব আসন এখনও ফাঁকা রয়েছে, সেগুলিতে যোগ্য প্রার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়াই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন : পুজো মিটলেই পুরভোট! কারা টিকিট পাবেন? এবার সাফ জানালেন সুকান্ত মজুমদার
ভর্তি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কলেজগুলির নিজস্ব অফলাইন কাউন্সেলিংয়ের পদ্ধতি এবার রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে সমস্ত কলেজের খালি আসন এবং প্রার্থীদের আবেদন একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে wbjeeb.in পোর্টালের মাধ্যমে। ফলে ইতিমধ্যে কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেও পছন্দের কোর্স বা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল অনেক পড়ুয়ার সামনে। তবে কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কাউন্সেলিংয়ের ধাপগুলি কী হবে—এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।













