বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য বাজেট ২০২৬-এ (State Budget 2026) কৃষিক্ষেত্র নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। যাঁদের নিজের চাষযোগ্য জমি নেই, কিন্তু অন্যের জমিতে মজুরি করে সংসার চালান, সেই ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি দপ্তর শনিবার এই প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
কীভাবে মিলবে টাকা?
সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই অর্থ এককালীন দেওয়া হবে না। বছরে মোট ৪ হাজার টাকা দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। রবি ও খরিফ, দুই কৃষি মরসুমে সমানভাবে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। প্রশাসনের দাবি, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই প্রকল্পের সুবিধা কার্যকর হবে।
রাজ্য বাজেটে (State Budget 2026) কেন এই সিদ্ধান্ত?
রাজ্যের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। সেই ব্যবস্থার একটি বড় অংশই হল ক্ষেতমজুর সম্প্রদায়, যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, সারা বছর অন্যের জমিতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর।
কারা পাবেন, কারা পাবেন না?
প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কিছু শর্ত মানতেই হবে। সেগুলি হল –
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- তাঁর নামে কোনও চাষযোগ্য জমি থাকা চলবে না।
- ভাগচাষি হিসেবে নথিভুক্ত থাকলে তিনি এই সুবিধা পাবেন না।
- ‘কৃষক বন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কেউ এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?
ব্লক স্তরে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। সহকারী কৃষি অধিকর্তার তত্ত্বাবধানে আবেদন নেওয়া, নথি যাচাই এবং অনুমোদনের কাজ চলবে। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন জেলাস্তরের উপ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন)। একাধিক ধাপে যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে।
কী কী নথি লাগবে?
- আধার কার্ড বাধ্যতামূলক।
- ভোটার কার্ড জমা দেওয়া ঐচ্ছিক।
- আবেদনকারীর নিজস্ব সাধারণ সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
- জনধন অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধার-সংযুক্ত এবং কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হতে হবে।
- যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
- স্ব-ঘোষণাপত্র ও আধার তথ্য ব্যবহারের সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ আর সময় নয়! পাঁচজনের বিরুদ্ধে FIR করতেই হবে, স্পষ্ট নির্দেশ কমিশনের
যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে এনপিসিআই মারফত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বৈধতা পরীক্ষা করা হবে। সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ে ডিবিটি পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ জমা পড়বে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে। কৃষি দফতরের বক্তব্য, ক্ষেতমজুরদের শ্রম ও অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য (State Budget 2026)।












