বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্যের প্রাক্তন সরকারি কর্মীরা তাদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং এরিয়ার টাকা পাচ্ছিল না। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া কর্মীদের অনেকের বকেয়া আটকে ছিল আইনি জটিলতা আর প্রশাসনের ধোঁয়াশার কারণে। এতদিন শুধু বর্তমান কর্মীদের টাকা নিয়ে তৎপরতা থাকলেও, অবসরপ্রাপ্তরা অপেক্ষারত ছিলেন। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করেছে, এই দীর্ঘদিনের বকেয়া এখন পেনশনভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কবে থেকে বকেয়া টাকা (Dearness Allowance) পাবেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর নতুন অর্থবর্ষ শুরুতেই ঘোষণা করেছে, রাজ্যের প্রাক্তন সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং এরিয়ার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
- ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যারা অবসর নিয়েছেন, তারা এই বকেয়া (Dearness Allowance) পাবেন।
- ফ্যামিলি পেনশন বা পারিবারিক পেনশন প্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় আছেন।
- কোনো কর্মীর মৃত্যু হয়ে থাকলে, তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির অ্যাকাউন্টে টাকা সরাসরি জমা হবে।
সময়সীমা: বকেয়া (Dearness Allowance) মেটানোর জন্য ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া DA কর্মরত সরকারি কর্মীদের জন্য ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে। এবার সেই তৎপরতা প্রয়োগ হচ্ছে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে।
কীভাবে টাকা মিলবে?
পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে ট্রেজারি বা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক সরাসরি টাকা জমা করার দায়িত্ব নেবে। স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, পরিবহণ, পঞ্চায়েতের মতো প্রতিটি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আওতাধীন পেনশনভোগীদের তালিকা দ্রুত তৈরি করতে। অর্থ সচিবের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রতিটি দপ্তরের আর্থিক উপদেষ্টাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত পাওনাদারের হিসেব ঠিকমতো মেলানো হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষের সমস্যা..’, জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে মুখ খুললেন মোদী, এল বড় নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কর্মী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে রাজ্য প্রশাসন বাধ্য হয়েছে এই বকেয়া (Dearness Allowance) মেটাতে। এতদিন শুধু কর্মরতদের বকেয়া নিয়ে তৎপরতা থাকলেও, পেনশনভোগীরা অপেক্ষারত ছিলেন। নবান্নের এই বিজ্ঞপ্তি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার সেই দীর্ঘ জট কেটে দিল। সূত্রের খবর, আগামী ৬ মাসের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এই বকেয়া পাওয়ার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।












