বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলায় শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা তোলাবাজি, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটচক্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে প্রশাসন। সোমবার রাজ্য বাজেট পেশের সময় এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
তোলাবাজি রুখতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আগে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী মহলের একাংশের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে অর্থ দাবি করা হতো। নতুন দোকান চালু করা, জমি বা বাড়ি কেনাবেচা কিংবা ছোট-বড় ব্যবসা শুরু—বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা দিতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ উঠত। ব্যবসায়িক পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও সিন্ডিকেটের দাপট নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, শুধু ব্যবসা নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ শোনা যেত। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে অন্যান্য উৎসবের সময়ে বহু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হত বলে অভিযোগ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে হুমকি, চাপ কিংবা হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে আসে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার এবার কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হস্তক্ষেপ ও চাঁদাবাজি ব্যবসার ক্ষতি করছে। এইটা বন্ধ করার জন্য আইন আনছি আমরা।”

আরও পড়ুন : বাড়ির ভিতর কাড়ি কাড়ি সোনা! সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪ কোটির গয়না
রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে এবং নতুন শিল্প গড়ে তুলতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব রাজ্যে পরিণত করতে হলে বেআইনি অর্থ আদায়, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক ও আইনি স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নতুন আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকরা আরও সুরক্ষিত পরিবেশ পাবেন বলে সরকারের আশা।













