বাংলা হান্ট ডেস্ক : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হুগলির জিরাটে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক ভিটে এখন আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সম্পত্তিটি কিনে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা সরকারের। সরকারের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে এই ঐতিহাসিক স্থানকে গবেষণা, ইতিহাসচর্চা এবং পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
শ্যামাপ্রসাদের বাড়ি সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ সরকারের(West Bengal Government)
নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জিরাটের পৈতৃক বাড়িকে সংরক্ষণ করে সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু হয়। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষ পর্যন্ত চার উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে বাড়ি ও জমি কিনে নেয় রাজ্য সরকার।
মালিকানা বদলের জন্য মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮২২ টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই কলকাতার রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসিওরেন্স দফতরে নথিভুক্তির সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একই দিনে সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বহু দশক ধরে পারিবারিক মালিকানায় থাকা এই ঐতিহাসিক বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রশাসনিক স্তরে গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই জমি ক্রয়, অর্থ প্রদান এবং রেজিস্ট্রেশনের সমস্ত কাজ শেষ করে ফেলে প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ০.৩০১৭৯ একর জমির সঙ্গে বসতবাড়িটিও কেনা হয়েছে। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। বাড়ির কাঠামোর মূল্য ধরা হয়েছে ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রশাসনিক খরচ যোগ হওয়ায় মোট দাম প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।
শুধু বাড়ি সংরক্ষণই নয়, গোটা এলাকা ঘিরেই বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই অর্থে পুরনো বাড়ির সংস্কার, ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তি নির্মাণ, একটি আধুনিক সংগ্রহশালা, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, পার্ক এবং আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। পাশাপাশি জিরাটে একটি নতুন অডিটোরিয়ামও নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :বেলায় ক্লাস নয়! রাজ্যে ফের শুরু হতে পারে সকালে স্কুল, বড় ইঙ্গিত দিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানকে সামনে রেখেই স্মৃতিরক্ষার এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জিরাটে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার রয়েছে, শ্যামাপ্রসাদের নামে এতদিন উল্লেখযোগ্য কোনও সরকারি স্মারক ছিল না। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আগে একটি ছোট মূর্তি স্থাপন করলেও এবার অনেক বড় পরিসরে তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা সফল হলে জিরাটের এই ঐতিহাসিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে নতুন পরিচয় পাবে এবং দেশ-বিদেশের গবেষক ও দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।













