বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সালটা ২০২০, কোভিডের জেরে একপ্রকার হাহাকার পরে গিয়েছিল রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বেড না পাওয়ায় বহুরূগী চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ঘুরেছে। এমনকি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেও মৃত্যু হয়েছিল এক আঠেরোর যুবকের। তবে এবার এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোদিন না ঘটে তার জন্য বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Department)।
সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে প্রাইভেট হাসপাতালে মিলবে চিকিৎসা
বিগত কিছুদিন যাবৎ সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে ‘রেফার’ বা অংশীদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এবার জানা যাচ্ছে, কলকাতার ৬টি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলো তাঁর নিকটবর্তী প্রাইভেট হাসপাতালের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি কলেজে বেড না থাকলেও প্রাইভেট বা কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেন সাধারণ মানুষ।
ভাবছেন সেটা কেমন ভাবে? তাহলে জেনে রাখুন। ব্যাপারটা এরকম যে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যদি বেড না থাকে তাহলে সেই রুগীকে রেফার না করে সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে পাঠানো হবে। এক্ষত্রে রোগীর কি সমস্যা রয়েছে সেই তথ্য কন্ট্রোল রুমকে জানাতে হবে ও স্বাস্থ্য ভবনকে পাঠাতে হবে। এরপর সেই অনুযায়ী কি ধরণের চিকিৎসা হবে সেটা নিয়ে একটি ‘কেস সামারি’ দেখে নোডাল অফিসার উপযুক্ত বেড ঠিক করে দেবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘VIP কালচারে ইতি’, পশ্চিমবঙ্গ দূর্গা পুজো সমন্বয় সমিতির উদ্বোধনে স্পষ্ট বার্তা রুদ্রনীল ঘোষের
ন্যাশনালের রুগী মানিপালে, আরজি করে ILS এ
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে যেমনটা জানা যাচ্ছে, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে বেডের অভাব থাকলে রোগীকে ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতলে পাঠানো হবে। কলকাতা মেডিক্যালের ক্ষেত্রে রেফার করা হবে সল্টলেকের মণিপাল গ্রূপের হাসপাতালে। আরজি কর মেডিক্যালের ক্ষেত্রে সল্টলেকের আইএলএস হাসপাতালে রুগী পাঠানো হবে। অন্যদিকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে বেলঘরিয়া জেনিথ হাসপাতালে রোগী পাঠানো হবে।
এদিকে এনআরএস এর সাথে অ্যাপেলোর সংযুক্তির জন্য কথা চলছে। যদিও অ্যাপোলোর কোনো প্রতিনিধি এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলেন জানা যাচ্ছে। বৈঠক শেষের পর মেডিক্যাল কলেজের MSVP জানান, অ্যাপেলোকে ডাকা হলেও তারা কোনো প্রতিনিধি পাঠাননি। যেহেতু মন্ত্রী নিজেই গোটা বিষয়টা দেখছেন তাই আশা করা যায়, বাকি হাসপাতালের মত এটিও শীঘ্রই ফাইনালাইজ হবে যাবে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে বাম আমলে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে এই নামি বেসরকারি হাসপাতালগুলো তৈরির সময় সরকার একপ্রকার বিনামূল্যেই জমি দিয়েছিল। তবে তার জন্য কিছু শর্ত ছিল। সরকারি সুযোগের পরিবর্তে মোট এর উপর ১০% বেডে বিনাপয়সায় চিকিৎসা দেবে এই প্রাইভেট হাসপাতালগুলো। এমনটাই বলছে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৭। যদিও এই গোটা পক্রিয়া নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।













