বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে অবশেষে নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। ভোট ঘোষণার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে। সেই ঘোষণার পর সোমবার অর্থ দপ্তর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবে সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আপাতত সব বকেয়া নয়, নির্দিষ্ট সময়ের ডিএ প্রথম ধাপে মেটানো হবে।
কীভাবে দেওয়া হবে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance)?
অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো হবে। এই টাকা একসঙ্গে নয়, দুইটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে আগামী সেপ্টেম্বরে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সরকারি কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মিটিয়ে দিতে। তবে অর্থ দপ্তরের বক্তব্য, রাজ্যের কিছু আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বড় অঙ্কের ব্যয়ের কারণে সরকার ধাপে ধাপে এই বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বকেয়া হিসাব কীভাবে করা হবে?
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) AICPI (All India Consumer Price Index) অনুযায়ী হিসাব করা হবে। এছাড়া মনিটরিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে এই অর্থের সমন্বয় বা সংশোধন করা হতে পারে।
কোন কর্মচারী কীভাবে টাকা পাবেন?
গ্রুপ A, B ও C শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা GPF অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অন্যদিকে গ্রুপ-D কর্মচারীদের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে জমা করা হবে। আর বর্তমান পেনশনভোগী ও ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। যারা কলকাতার বাইরে ট্রেজারি থেকে পেনশন নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি থেকেই টাকা দেওয়া হবে। আর কলকাতা অঞ্চলে যারা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট অথারিটির মাধ্যমে ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানো হবে।
চাকরি ছেড়েছেন বা মৃত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কী হবে?
যেসব কর্মচারী বর্তমানে চাকরিতে নেই, কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কিছু সময় সরকারি পরিষেবায় ছিলেন, তারাও ওই সময়ের জন্য বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পাওয়ার অধিকারী বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য তাঁদের শেষ অফিসের Head of Office (HOO)-এর কাছে আবেদন করতে হবে। এছাড়া যদি কোনও কর্মচারী মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারী এই বকেয়া পাওয়ার অধিকারী হবেন।
২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া নিয়ে কী জানাল সরকার?
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) কীভাবে দেওয়া হবে, সেই পদ্ধতি পরে আলাদা করে জানানো হবে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ছোঁড়া বোমায় মেয়ের মৃত্যু, সেই কালীগঞ্জেই এবার CPM প্রার্থী তামান্নার মা
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের সদস্য চন্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসলে আদালত অবমাননার সামিল। তাঁর অভিযোগ, গ্রুপ A, B ও C কর্মচারীদের বকেয়া (Dearness Allowance) টাকা GPF অ্যাকাউন্টে জমা করা হলে তা সহজে তোলা সম্ভব হবে না। তাঁর দাবি, এই কারণে কর্মচারীদের অনেকেই অসন্তুষ্ট এবং খুব শীঘ্রই সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনের পথে নামতে পারেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।












