বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২৩ এপ্রিল রাজ্যে শুরু হয়ে গেল প্রথম দফা নির্বাচন। তবে ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে ব্রাত্যই শিক্ষকরা (Teachers)। এখনও তাঁদের মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, অর্থ দফতরের তরফে কোনও নির্দেশিকা এখনও আসেনি।
ডিএ ইস্যুতে ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষকদের মধ্যে | Dearness Allowance
তাদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতার দাবিতে গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তার পরই জানা যায় রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে কোন পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে, তা স্থির করবে সংশ্লিষ্ট দফতরে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। গত পয়লা এপ্রিল রাজ্যের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের মহার্ঘভাতা বা ডিএ কীভাবে দেওয়া হবে, সেই নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে রাজ্যের অর্থ দফতর।
২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ও ডিআর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। ঠিক কী পদ্ধতিতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের ডিএ মেটানো হবে তা জানতে চেয়ে সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরে চিঠি দেয়। ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) জানানোর কথা বলা হয়েছিল। এরপর নবান্নে পৌঁছয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল। শিক্ষাদপ্তর থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত ফাইল যায় নবান্নে। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নবান্ন থেকে গ্রিন সিগন্যাল মেলেনি বলে খবর। সবমিলিয়ে আশঙ্কায় শিক্ষকরা।
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্য ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করে জানায়, রাজ্য সরকারের প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। সুপ্রিম কোর্টও এরপর রাজ্যের আবেদন মত শুনানির দিন পিছিয়ে দেয়।
এদিকে শিক্ষকদের একাংশ অভিযোগ তুলতে থাকে রাজ্য সরকার ৬২ পাতার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার মধ্যে সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেও কী অধরাই থাকবে ডিএ? এই বিষয়ে প্রশাসনের এক কর্তা বলেন অর্থ দফতর থেকে কোনও বার্তা এলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
গোটা ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘এ সব চাপান উতর করে ভোটের বৈতরণী পার করার চেষ্টা চলছে।” তাঁর কথায়, “হাতে গোনা কিছু সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিয়ে সরকার দেখাতে চাইছে যে তারা কথা রেখেছে। কিন্তু আদতে বাদ পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী-সহ ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কর্মচারীরা।’’

আরও পড়ুন: সুখবর মধ্যবিত্তদের জন্য, অনেকটাই কমেছে সোনার দাম! জানুন ২২ ও ২৪ ক্যারেটের লেটেস্ট রেট
আনন্দবাজারে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল আবার বলেন, ‘‘সরকারের ইচ্ছাকৃত টালবাহানার জন্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হল। প্রথম থেকেই সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল।” হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “এর প্রভাব যে নির্বাচনের উপরে পড়বে সরকার সেটা ভাল ভাবেই বুঝতে পারবে।’’ সবমিলিয়ে বকেয়া ডিএ নিয়ে চিন্তার মাঝেই ভোটপর্ব কাটছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের।












