চা-ফল থেকে স্মার্টফোন! আমেরিকায় রফতানিতে ভারতের কোন কোন পণ্যে লাগবে না শুল্ক?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার (India-US Trade Deal) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পথে বড়সড় অগ্রগতি করল ভারত। চুক্তির ঘোষণা হতেই ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাল আমেরিকা। তবে শুধু শুল্ক ছাঁটাই নয়, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জন্য একাধিক বিশেষ সুবিধার দরজাও খুলে যাচ্ছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযূষ গয়াল। তাঁর কথায়, অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভারত এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে থাকবে।

আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে (India-US Trade Deal) কি কি লাভ হতে চলেছে?

পিযূষ গয়াল জানান, চুক্তির আওতায় ভারতের বহু পণ্যের উপর আর কোনও শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ লাগবে না। এর ফলে আমেরিকার বিশাল বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ হবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কেট খুলে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্বজুড়ে আম্বানির দাপট! বড় লক্ষ্য নিয়ে এই দেশে এন্ট্রি রিলায়েন্সের

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষি খাত এই চুক্তিতে বিশেষভাবে লাভবান হবে। ভারত থেকে চা, কফি, মশলা এবং নারকেল তেল আমেরিকায় রফতানির ক্ষেত্রে আর কোনও শুল্ক আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি আম, কলা, পেয়ারা, আনারস, কিউয়ি, অ্যাভাকাডো-সহ একাধিক ফল ও সবজি, বার্লি, কোকো পণ্য এবং তিলের বীজও শুল্কমুক্তভাবে আমেরিকায় রফতানি করা যাবে। এতে দেশের কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প নতুন সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু কৃষিপণ্যই নয়, শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ভারতের লাভ হচ্ছে এই চুক্তিতে। হিরে, স্মার্টফোন এবং ওষুধের উপরেও কোনও ট্যারিফ বা শুল্ক বসবে না বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ভারতের রত্ন ও গয়না শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স সেক্টরের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। অন্যদিকে, এই চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকা থেকে রেড সরগাম, ট্রি নাট, ওয়াইন ও স্পিরিট আমদানি করবে ভারত।

What are the potential benefits of the India-US Trade Deal?

আরও পড়ুন: লম্বা সুইডিশ নারীর প্রস্তাব! এপস্টিন ফাইলের নথিতে এবার অনিল আম্বানির নাম

বাণিজ্য চুক্তির খসড়া ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পিযূষ গয়াল। তাঁর মতে, আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হতে পারে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগও আরও গতি পাবে।