একবার এমপি-এমএলএ পর্ব মিটলেই বড় পদক্ষেপ! কী পরিকল্পনা ঋতব্রতদের?

Published on:

Published on:

What big steps is Ritabrata Banerjee planning to take ?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই এখন আর শুধু বিধানসভা বা সংসদের সংখ্যার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নেই। দলের সাংগঠনিক ভিত্তির উপর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এবার এগোতে চাইছেন বিদ্রোহী নেতারা। এমনই ইঙ্গিত দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়(Ritabrata Banerjee)। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন এই মুহূর্তে তাঁদের আলোচনায় নেই।

কী প্ল্যান ঋতব্রতদের (Ritabrata Banerjee)?

সম্প্রতি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, একই পথ কি অনুসরণ করবেন বিদ্রোহী বিধায়কেরাও? সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে ঋতব্রত জানান, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য হল বিধানসভায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের সমর্থনভিত্তি শক্তিশালী করা।

আগামী পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা এবং জেলা স্তরের সংগঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বহু জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমপি-এমএলএদের বিষয়টি শেষ হলে পুরসভাগুলো আমাদের দিকে আসবে। পুরসভা, পুরনিগম, জেলা পরিষদ, এমনকি বিভিন্ন জেলার সভাপতিরাও ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এটা সংসদীয় গণতন্ত্র। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাই শেষ কথা। যাই হোক, নির্বাচন কমিশনে দেখা হবে।”

আন্দোলনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঋতব্রত আরও বলেন, “তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের সংগঠন বৈঠক করবে। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছি। প্রথম লক্ষ্য ছিল বিধায়করা, তারপর সাংসদরা। এরপর ধীরে ধীরে আমরা পুরনিগম, তারপর পুরসভা, তারপর জেলা পরিষদগুলোর দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেব।” বিদ্রোহী শিবির নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে মনে করে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

এই প্রসঙ্গে ঋতব্রতের বক্তব্য, দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধির সমর্থন তাঁদের দিকেই রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরাই তৃণমূল। আসল-নকল আবার কী? দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রয়োজন হলে আমরা নির্বাচন কমিশনে যাব।” দলের বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থা নিয়েও এদিন সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাথমিক আদর্শ ও সংগঠনের চরিত্র থেকে দলকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রতের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তোলা একটি তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে দারুণভাবে একটা কর্পোরেট আমলাতন্ত্র দখল করে নিয়েছে।” তবে এই রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তাঁদের আন্দোলন ব্যক্তিগতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে নয়। বরং সংগঠনের বর্তমান কাঠামো ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়েই তাঁদের আপত্তি। এনসিপিআই-তে যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কেও জল্পনায় জল ঢেলেছেন ঋতব্রত।

What big steps is Ritabrata Banerjee planning to take ?

আরও পড়ুন : খাদ্য সরবরাহ দপ্তরে তোলাবাজির অভিযোগ,‌ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

ঋতব্রতর দাবি, ওই দল সম্পর্কে তাঁদের বিস্তারিত ধারণা নেই এবং কোনও দলীয় সংযুক্তি নিয়েও এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এনসিপিআই সম্পর্কে শুনেছি, কিন্তু এই দল সম্পর্কে কোনও সম্যক ধারণা নেই। এনসিপিআই নিয়ে আমাদের কারও কোনও ধারণা নেই। আমরা বিধানসভায় সদর্থক, গঠনমূলক বিরোধিতা করব। আমরা এমন কিছু করব না যাতে অসুবিধা হয়। বিল নিয়ে ভোটাভুটি হলে আমাদের যা সংখ্যা, তাতে হয়তো আমরা হেরে যেতে পারি। কিন্তু তার পরেও আমরা ওয়াকআউট করে যাব না। আমার কথাতেই স্পষ্ট, আমরা কী করতে চাইছি। প্রতীক নিয়ে আলোচনা এখনও হয়নি। আমরা কোনও দলের সঙ্গে মিশে যাইনি।”‌ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ যে সংগঠনের ভিতরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে, ঋতব্রতের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।