বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্যের খোঁজে সক্রিয় হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শনিবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) একাধিক আবাসনে তল্লাশি চালাল ইডি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মদন মিত্রের (Madan Mitra) বাড়ি থেকে কী পাওয়া গেল ?
তদন্তকারী সূত্রের খবর, শনিবার ভোরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছে যায় ইডির একটি দল। প্রথমে জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেখানে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় আধিকারিকদের। ফ্ল্যাটে তালা ঝুলতে থাকায় ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তকারীদের দীর্ঘ সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। পরে চাবির ব্যবস্থা হওয়ার পর শুরু হয় তল্লাশি।
একই সময়ে ভবানীপুরে মদন মিত্রের আরও একটি ফ্ল্যাটেও পৌঁছে যায় তদন্তকারী দল। দুই জায়গাতেই বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য এবং নিয়োগ মামলার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান। তল্লাশি শেষে তদন্তকারীরা বেশ কিছু নথি নিজেদের হেফাজতে নেন বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মদন মিত্রের ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার সীতারাম পাহাড়ি বলেন, “ওরা সকালে এসেছিল। বলল আমরা ইডি। তারপর কিছু কাগজপত্র দেখছিল। বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে গেছে। দাদার খোঁজ করছিল।” এর আগেও এই মামলার তদন্তে সিআইডি সক্রিয় হয়েছিল।

আরও পড়ুন : ফের বড় বদল তৃণমূলে, সায়নী আউট! কার হাতে তৃণমূলের যুব সংগঠনের কমান্ড?
এবার ইডির এই তল্লাশি নতুন করে মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া নথি বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো এই তল্লাশি যে তদন্তের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ, তা স্পষ্ট। এখন উদ্ধার হওয়া নথি বিশ্লেষণের পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই মামলায় নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সকলের।













