বাংলাহান্ট ডেস্ক: একে একে সবাইকে খতম করার প্রচেষ্টা! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ফের বড় ধাক্কা খেল ইরানের (Iran) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ। সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ইরানের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ খাদেমি। সোমবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, কীভাবে এবং কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ফলে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান খাদেমির মৃত্যুতে কী জানাল ইরান (Iran)?
খাদেমির আগে এই পদে ছিলেন মহম্মদ কাজ়েমি, যিনি গত বছর অর্থাৎ ২০২৫- এর জুন মাসেই ইজ়রায়েলের হামলাতেই নিহত হন। তার পরেই ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদেমি। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই ফের সেই একই পরিণতি হওয়ায় ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিকদের মৃত্যু ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা।
আরও পড়ুন: অভাবকে জয় করে পরীক্ষায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল! সরকারি আধিকারিক হলেন ২৫ বছরের আকাঙ্ক্ষা
বর্তমানে ইরান একাধিক ফ্রন্টে চাপের মুখে রয়েছে। এক দিকে ইজ়রায়েল, অন্য দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুই শক্তিধর দেশের সঙ্গেই সংঘর্ষে জড়িয়ে রয়েছে তেহরান। হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এর মধ্যে কূটনৈতিক স্তরেও চাপ বাড়ছে। ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ধারাবাহিকভাবে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন, যদিও তেহরান এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আরও জোরালো সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, দ্রুত সমঝোতা না হলে কঠোর আঘাত হানবে আমেরিকা, যা গোটা অঞ্চলে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন:ICC-র এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ডের জন্য জোর টক্কর বুমরাহ-স্যামসনের! কে করবেন বাজিমাত?
তবে সংঘর্ষের মাঝেও কূটনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর দাবি, গোপনে ইরান (Iran) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে ৪৫ দিনের জন্য সংঘাত স্থগিত রাখার সম্ভাবনা নিয়েও কথাবার্তা এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দুই দেশের তরফে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা এখনও থেকেই যাচ্ছে।












