বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর এবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর (RBI Governor) সঞ্জয় মালহোত্রাও সেই আবহে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের বার্তা দেওয়ার পর এবার নিজের কনভয়ের বহরও অর্ধেক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা বিধি বজায় রেখেই কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজিকে। একইসঙ্গে কনভয়ে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে, যদিও নতুন গাড়ি কেনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
যুদ্ধের আবহে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে কি বললেন RBI গভর্নর (RBI Governor)
প্রধানমন্ত্রীর এই ‘অস্টারিটি মেজ়ার্স’-এর পথ ধরেই নিজেদের কনভয় ছোট করতে শুরু করেছেন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার বিধানসভায় শপথ নিতে এসে জানান, তিনিও নিজের কনভয়ের বহর কমিয়েছেন। তাঁর কথায়, “অপ্রয়োজনীয় গাড়ি রাখার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।” শুভেন্দু জানান, রাজ্যের নিরাপত্তা কর্তাদেরও এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার তাঁর কনভয়ের আকার অনেকটাই ছোট ছিল।
আরও পড়ুন:‘মেয়ে আবার কী করবে’? UPSC-তে বাজিমাত করে IAS অফিসার হয়ে কটাক্ষের জবাব বঙ্গকন্যা শ্বেতার
শুধু কনভয় কমানোই নয়, জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহণ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, সপ্তাহে অন্তত এক-দু’দিন মেট্রো বা বাসে যাতায়াত করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদেরও সাধারণ মানুষের মতো গণপরিবহণ ব্যবহার করা উচিত। এদিন গেরুয়া শিবিরের বেশ কয়েকজন বিধায়কও সরকারি বাসে চেপে বিধানসভায় আসেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের কম গাড়ি ব্যবহার এবং পুল-কার বা গণপরিবহণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দাবি করেছে, দেশে এখনও পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং আপাতত পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ছে না। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার মন্তব্য। সুইস ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি “শুধু সময়ের অপেক্ষা”। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে, অথচ দেশে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে লোকসানে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মেট্রোর কাজের জেরে চিংড়িঘাটায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, কোন পথে চলবে গাড়ি জানাল পুলিশ
এদিকে, বিরোধীরা এই সংযম বার্তাকে ঘিরে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। কংগ্রেস ও তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, একদিকে সাধারণ মানুষকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদলের বড় বড় রোড শো ও বিশাল কনভয় চলছেই। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “নাগরিকদের জ্বালানি বাঁচাতে বলা হচ্ছে, অথচ সোমনাথ মন্দিরের উপরে এয়ার শো হচ্ছে।” রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই এখন নজর, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি আগামী দিনে ভারতের জ্বালানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে (RBI Governor)।













