বাংলাহান্ট ডেস্ক: মেয়ে বলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল পরিবারের বাকিরা; পাশে ছিলেন শুধু বাবা-মা। বড় হয়ে সেই মেয়েই সফল (Success Story) আইএএস অফিসার হয়ে নজির গড়লেন। চরম দারিদ্র, পারিবারিক কটাক্ষ এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একের পর এক বাধা, সবকিছুকে হার মানিয়ে আজ বাংলার গর্ব হয়ে উঠেছেন আইএএস অফিসার শ্বেতা আগরওয়াল। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক বা ডিএম পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। একবার নয়, টানা তিনবার দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি-তে সাফল্য অর্জন করেছেন শ্বেতা। তাঁর জীবনসংগ্রামের কাহিনি আজ বাংলার অসংখ্য মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
শ্বেতা আগরওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
ভদ্রেশ্বরের সাধারণ পরিবারে জন্ম শ্বেতার। জন্মের পর থেকেই পরিবারের একাংশের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। পুত্রসন্তান না হওয়ায় বাবা-মায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ‘ছেলে চাই, না হলে দত্তক নাও’— এমন কথাও শুনতে হয়েছিল পরিবারকে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই নিজের পরিচয় তৈরি করার জেদ চেপে বসেছিল শ্বেতার মনে। সমাজের সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছিল তখন থেকেই।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে সরানো হয়েছিল, ক্ষমতা বদলাতেই নন্দিনীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল বিজেপি সরকার
দিনমজুর বাবার পক্ষে সংসার চালানোই ছিল কঠিন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও শিক্ষা থেকে কখনও পিছিয়ে আসেননি তাঁর বাবা-মা। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, পড়াশোনাই পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে। সেই সাহস আর ভরসাকেই সম্বল করে এগিয়ে চলেন শ্বেতা। পারিবারিক অভাব, গঞ্জনা কিংবা আর্থিক সংকট— কোনও কিছুই তাঁর স্বপ্নকে দমাতে পারেনি।
ব্যান্ডেল জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন তিনি। পরে একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও পান। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণে চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন শ্বেতা। ২০১৪ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪৯৭ অর্জন করে আইআরএস অফিসার হন। পরের বছর আইপিএস এবং ২০১৬ সালে তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১৪১ র্যাঙ্ক করে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার যেতে এবার হাইকোর্টে আইনজীবী মমতা, কোন মামলায় সওয়াল করবেন ?
আজ পূর্ব বর্ধমানের ডিএম হিসেবে দায়িত্ব সামলানো শ্বেতা আগরওয়াল নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল প্রতীক। সমাজের চোখে ‘অবাঞ্ছিত’ এক কন্যাসন্তান কীভাবে নিজের মেধা, পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার শীর্ষে পৌঁছতে পারেন, তার জীবন্ত উদাহরণ তিনি। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের মেয়েদের কাছে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।













