বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিদেশ ভ্রমণ করতে গেলে পাসপোর্ট (Passport) লাগেই লাগে। তবে এই নথি সরকারিভাবে আর নাগরিকত্বের অখণ্ড ও চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রক একথা স্পষ্ট জানিয়েছে। এরপর থেকে অনেকের প্রশ্ন, তাহলে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ (Citizenship Proof) হিসেবে কোন নথি কাজে লাগে?
নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত কোন নথি? | (Citizenship Proof)
এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে স্পষ্ট করা হয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ভোটার কার্ডের দেশের ভিতর যথেষ্ট গুরুত্ব থাকলেও এটিও ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সও এক্ষেত্রে কাজে আসে না। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কোন নথি, এই প্রশ্ন অনেকের মনে দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার! দিনক্ষণ, যাতায়াতের বিকল্প রুট জানুন
এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫-এর অধীন নির্দিষ্ট আইনসম্মত সনদ ও বংশগত নথিপত্রের সমন্বয়ের মধ্যে এর উত্তর লুকিয়ে আছে। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুসারে যে সকল নথিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় এর মধ্যে অন্যতম ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫-এর ৫ ও ৬ ধারার আওতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই নথি জারি করা হয়। কোনও বিদেশি নাগরিক কিংবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেউ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলে তাঁদের এই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেটকে গণ্য করা হয়। তবে এক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কারণ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনে বেশ কিছু বদল এসেছে। ফলে যে কোনও ব্যক্তির জন্মসালের উপর তাঁর বার্থ সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরশীল।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ বার্থ সার্টিফিকেট। তবে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা এদেশে জন্মেছেন তাঁদের বার্থ সার্টিফিকেটের পাশাপাশি প্রমাণ করতে হবে তাঁর জন্মের সময় অন্তত একজন অভিভাবক এদেশের নাগরিক ছিলেন।

তবে এই সময়কালের পর যারা এদেশে জন্মেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেটের পাশাপাশি দেখাতে হবে দু’জন অভিভাবকই ভারতের নাগরিক। কিংবা একজন এদেশের নাগরিক ও আরেকজন অবৈধ অভিবাসী নন।
এছাড়া জানা গিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব বিষয়ক মামলা অথবা জটিল কোনও আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে আদালত প্রায়ই পারিবারিক উত্তরাধিক সংক্রান্ত নথিপত্র, অনেক পুরনো জমির দলিল ও স্থানীয় সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজনীয় তথ্যের উপর নির্ভর করে।
এদিকে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় জানানোর পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সমাজমাধ্যমে অনেকে নিজের মতামত জানিয়েছেন। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে কাটাছেঁড়া করছেন।













