কেন বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম? নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কারণ, জানাল SBI-র রিপোর্ট

Published on:

Published on:

What is the reason behind the petrol diesel price hike?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৪ টাকা বেড়েছে। এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে, কিন্তু দেশের অর্থনীতির ওপর এর ঠিক কী প্রভাব পড়বে? স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক ‘ইকোর‍্যাপ’ রিপোর্টে এই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই রিপোর্টের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি গ্রাহকদের পকেটের ওপর তাৎক্ষণিক বোঝা সৃষ্টি করলেও এটি দেশের আর্থিক অবস্থার ওপর কোনো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। এমতাবস্থায় চলুন জেনে নেওয়া যাক জ্বালানির দামে এই বৃদ্ধির নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে?

কেন বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol Diesel Price Hike) দাম?

মুদ্রাস্ফীতির সূচক দ্রুত আরও কিছুটা বাড়বে: SBI-এর রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতির হার তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, ২০২৬ সালের মে-জুন মাসে মুদ্রাস্ফীতি ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশ (১৫ থেকে২০ বেসিস পয়েন্ট) বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৪.৭ শতাংশ করা হয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যখনই তেলের দাম বাড়ে, তখনই সাধারণ মানুষ এর ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে, কিছু সময় পর এই ব্যবহার আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এদিকে, বার্ষিক ভিত্তিতে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রিতে কোনও উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায় না।

What is the reason behind the petrol diesel price hike?

তেল কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে: জ্বালানির দামে কেন বৃদ্ধি করা হল? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলির ক্ষতির মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে খুচরো মূল্য স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বাড়ছিল। এর ফলে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির (OMCs) ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গিয়েছিল যে, এই সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বার্ষিক ভিত্তিতে হিসাব করলে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ নিয়ে মিটবে চিন্তা! চিনের এই বড় কোম্পানির সঙ্গে মেগা চুক্তির প্রস্তুতি মুকেশ আম্বানির

ট্যাক্স বিলুপ্ত হলে সরকারি কোষাগারে প্রভাব পড়বে: এদিকে, সরকার যদি গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে কোষাগার প্রভাবিত হবে। বর্তমানে পেট্রোলের ওপর ১১.৯ শতাংশ এবং ডিজেলের ওপর ৭.৮ শতাংশের এক্সাইজ ডিউটি রয়েছে। সরকার যদি এটি শূন্যে নামিয়ে আনে, তবে সরকারি রাজস্বে প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হবে।

আরও পড়ুন: ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ল্যাপ অফ অনার! তুললেন ছবিও, IPL-কে ‘গুডবাই’ জানালেন ধোনি?

এদিকে, সরকার যদি তার ব্যয় হ্রাস না করে তবে দেশের রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মার্চ মাসে কার্যকর হওয়া ১০ টাকা ডিউটি হ্রাসের ফলে হওয়া মোট ক্ষতিও যদি হিসাবে ধরা হয়, তাহলে চলতি অর্থবর্ষে সরকারের মোট ঘাটতি ৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে, জ্বালানিতে ৩ টাকা বৃদ্ধি ক্ষতির ১৫ শতাংশ পূরণ করছে। যেখানে এক্সাইজ ডিউটি শূন্য হলে ৫৩ শতাংশ পূরণ হত।