বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Oil Reserves) সরবরাহ ও দামের ওঠানামা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলি নিজেদের আপৎকালীন মজুত থেকে তেল ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বড় বড় অর্থনৈতিক দেশগুলিকে প্রয়োজনে যৌথভাবে মজুত করা তেল বাজারে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। G7–এর অর্থমন্ত্রীরা সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করে। সেই বৈঠকেই জাপান এই বার্তা তুলে ধরেছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল মজুত (Oil Reserves) কোন কোন দেশ?
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করে তাদের অন্তত ৯০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো মজুত রাখতে হয়। এই নিয়মও নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাই। সাধারণত এই মজুত থাকে সরকারি ভাণ্ডার, বাণিজ্যিক ট্যাঙ্ক এবং তেল কোম্পানির নিজস্ব স্টোরেজে। এর উদ্দেশ্য হল যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সরবরাহে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটলে দেশগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করা।
আরও পড়ুন: ক্রমশ বাড়ছে সঙ্কট! পাকিস্তানে লাফিয়ে বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কী অবস্থা শ্রীলঙ্কার?
বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাণ্ডারে প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে এবং তেল কোম্পানিগুলির কাছে আরও প্রায় ৪৩৯ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত আছে। জাপানের কাছে মোট মজুত প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন ব্যারেল, যার মধ্যে ২৬০ মিলিয়ন ব্যারেল সরকারি স্টোরেজে রাখা রয়েছে যা প্রায় ১৪৬ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের কাছেও প্রায় ১.২ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা তিন থেকে চার মাসের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালি এবং ব্রিটেনের কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল বর্তমানে সমুদ্রপথেই ট্যাঙ্কারে ভাসছে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এখন বিভিন্ন ট্যাঙ্কারে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যার বড় অংশ এশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলে। এর মধ্যে ইরান, ভেনেজুয়েলা এবং রাশিয়ার তেলও রয়েছে, যাদের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার কারণে প্রতিদিনই প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক দেশ বিকল্প উপায়ে তেল সংরক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন: দেশে ঘাটতি দেখা দিলে গ্যাস পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার কাদের? জানিয়ে দিল সরকার
এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের হাতে বর্তমানে ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা প্রায় সাত থেকে আট সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই তেল মূলত ম্যাঙ্গালুরু, পাডুর এবং বিশাখাপত্তনমের ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন ও জাহাজেও মজুত রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ভারতে মাত্র ২৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে—এই দাবি সঠিক নয়। পাশাপাশি এখন ভারতের তেল আমদানির উৎসও বিস্তৃত হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হত, এখন তা বেড়ে প্রায় ৪০টি দেশে পৌঁছেছে। ফলে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কিছুটা কমে যাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কমেছে।












