বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের (Travel) অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যে বিপুল পার্থক্য রয়েছে, তা উঠে এসেছে Pew Research Center-এর ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষায়। ২৪টি দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে করা এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোথাও প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই অন্তত একবার দেশের সীমানা পেরোনোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, আবার এমন দেশও আছে যেখানে অধিকাংশ মানুষ এখনও বিদেশে যাননি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। সুইডেন (Sweden) ও নেদারল্যান্ডসে (Netherlands) ৯৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ অন্তত একবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত অন্য দেশগুলিতেও অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের বিদেশ যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ছোট আয়তন, পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহজে যাতায়াতের সুবিধা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশ ভ্রমণে (Travel) সবচেয়ে এগিয়ে কোন কোন দেশ?
অন্যদিকে, ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই আলাদা। সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র ৩ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন যে তাঁরা জীবনে অন্তত একবার অন্য দেশে গিয়েছেন। অর্থাৎ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের এখনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়াতেও বিদেশ ভ্রমণের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় এই দেশগুলিকে আলাদা করে ‘Travel experience’ বিশ্লেষণের আওতায় রাখা হয়নি। তবে বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কম মানেই যে বিদেশ ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ নেই, তা নয়। অনেক ভারতীয় সুযোগ পেলে অন্য দেশে যেতে চান। আবার প্রায় ২৯ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন, সুযোগ পেলেও তাঁদের বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহ নেই।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সিলমোহরের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই শপথ! কলকাতা হাই কোর্টে নজিরবিহীন ঘটনা
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে সমীক্ষায়। Pew-এর বিশ্লেষণ বলছে, সাধারণত উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের হার বেশি। একই দেশের মধ্যেও বেশি উপার্জনকারীদের বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। ২০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, মধ্যম আয়ের মানুষের তুলনায় বেশি আয় করা ব্যক্তিরা বেশি বিদেশ ভ্রমণ করেন। আমেরিকায় এই ব্যবধানটি বিশেষভাবে স্পষ্ট—মধ্যম আয়ের চেয়ে বেশি উপার্জনকারীদের ৯১ শতাংশ অন্তত একবার বিদেশে গিয়েছেন, যেখানে কম আয়ের মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৬ শতাংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ১৮টি দেশে বেশি শিক্ষিত মানুষের বিদেশ ভ্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
শুধু বিদেশে গিয়েছেন কি না, তা নয়, কতগুলি দেশ ঘুরেছেন সেই হিসাবেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ২৪টি দেশের গড় হিসাবে ৩৪ শতাংশ মানুষ এক থেকে চারটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৭ শতাংশের পাঁচ থেকে ন’টি দেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ১৩ শতাংশ মানুষ ১০টি বা তার বেশি দেশ ঘুরেছেন। এই ক্ষেত্রেও সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস এগিয়ে। সুইডেনে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অন্তত ১০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। নেদারল্যান্ডসেও প্রায় অর্ধেক মানুষের ১০ বা তার বেশি দেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তুলনায় ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং সমীক্ষায় থাকা লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে বিদেশ ভ্রমণকারীর হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম।

আরও পড়ুন: চোট পেয়ে দলের বাইরে, এবার গম্ভীরের বদলে কোচিং করাতে শুরু করলেন শুভমান গিল
সমীক্ষার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের (Travel) সঙ্গে মানুষের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিরও সম্পর্ক রয়েছে। যারা বেশি দেশ ঘুরেছেন, তাঁদের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত মনে করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ বিদেশ ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার অভিজ্ঞতা নয়, অন্য দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি মানুষের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিতে পারে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কোনও দেশের মানুষের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ কতটা, তা শুধু ভ্রমণের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। দেশের আয়স্তর, ব্যক্তিগত আর্থিক সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা—সবকিছুরই বড় ভূমিকা রয়েছে। ইউরোপের ছোট ও কাছাকাছি দেশগুলির মানুষের যেখানে সহজে সীমান্ত পেরোনোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে ভারতের মতো বড় দেশের বহু মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এখনও তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং সীমিত সুযোগের বিষয়।













