বাংলাদেশে সদ্য জয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সম্ভাব্য সরকার গঠনের আগে কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিল। দলের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাবনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তারেক রহমানের (Tarique Rahman) শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকবেন মোদি?
প্রাথমিকভাবে শনিবার শপথপাঠের কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কারণে তা কয়েকদিন পিছিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর সংসদ না থাকায় স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউই দায়িত্বে নেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনেই শপথ নিতে হবে। গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:আত্মহত্যা না খুন? জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক
হুমায়ুন কবীর বলেন, দক্ষিণ এশিয়া তারেক রহমানের প্রস্তাবিত বিদেশনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য—“মানুষকে তখনই আমন্ত্রণ জানানো হয়, যখন আশা করা হয় তিনি আসবেন”—নয়াদিল্লির প্রতি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও ভারতের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ফল স্পষ্ট হতেই নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। সূত্রের দাবি, দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপও হয়েছে। এর আগে খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি তারেক রহমানের হাতে মোদীর লেখা একটি চিঠিও তুলে দেন। সেই থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।

আরও পড়ুন:মাত্র ৬ মিনিটেই সম্পন্ন হবে এক ঘন্টার সফর! অসমবাসীর জন্য বড় উপহার প্রধানমন্ত্রীর
তবে ক্ষমতায় আসার মুখে তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের বিদেশনীতির মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাগ্রে।” ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য—দুইয়ের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী, সেদিকেই নজর থাকবে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলের।












