বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে (Yuvasathi Scheme) আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অনেকেই আশা করেছিলেন খুব তাড়াতাড়ি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে কেন এত দেরি হচ্ছে এবং তারা শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের টাকা পাবেন কি না।
কেন দেরি হচ্ছে? কারা আগে টাকা পাচ্ছেন? (Yuvasathi Scheme)
সরকারি বড় প্রকল্পে সাধারণত বিপুল সংখ্যক মানুষের তথ্য যাচাই করতে হয়। যুবসাথী প্রকল্পের (Yuvasathi Scheme) ক্ষেত্রেও সেই একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন।
যারা সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য আগে থেকেই পোর্টালে রয়েছে। ফলে সেই তথ্য যাচাই করতে বেশি সময় লাগছে না। এই কারণেই অনলাইন আবেদনকারীদের ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারাই প্রথমে টাকা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্পে গিয়ে কাগজের ফর্মে অফলাইনে আবেদন করেছেন। সেই সব ফর্মের তথ্য এখন একে একে কম্পিউটারে তোলা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র থাকায় ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে কিছুটা সময় লাগছে। তাই অফলাইনে আবেদন করা অনেকের ক্ষেত্রে টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। তবে যাদের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হচ্ছে, তাদের অ্যাকাউন্টে ধীরে ধীরে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
কোন কারণে আবেদন আটকে যেতে পারে?
যাচাইয়ের সময় কিছু কারণে অনেক আবেদন বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হচ্ছে।
প্রথমত, কেউ যদি আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যুবসাথী প্রকল্পের (Yuvasathi Scheme) সুবিধা নিতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পে বয়সের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স এই সীমার বাইরে হলে সেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।
তৃতীয়ত, পরিচয়পত্রের সমস্যার জন্যও অনেক আবেদন আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার কার্ডের তথ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি শুধু ভোটার কার্ডের এক দিকের ছবি আপলোড করে থাকেন, অথবা ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকে, তাহলে সেই আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। আবার অফলাইন আবেদনে যাদের ভোটার কার্ড জমা পড়েনি, তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া নথিপত্র আপলোডের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। সাধারণত স্ব-প্রত্যয়িত বা সেলফ-অ্যাটেস্টেড নথি দিলে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। তবে শুধু আসল নথির ছবি দিলেই যে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে, এমনটা সব ক্ষেত্রে হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে! বাংলা শস্য বিমার তালিকায় আপনার নাম আছে কি? কীভাবে দেখবেন জানুন…
সব দিক মিলিয়ে বলা যায়, যাদের দেওয়া তথ্য ও নথি ঠিক থাকবে, তাদের আবেদন যাচাই শেষ হলেই ধাপে ধাপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। তাই অনেকের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগলেও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই অনুদানের টাকা পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Yuvasathi Scheme)।












