বাংলাহান্ট ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার রাজধানী লা পেজ-এর কাছে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা (Plane Crash)। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে শুক্রবার লা পেজ় সংলগ্ন এল অল্টো শহরে বিমানবন্দরের সামনের হাইওয়ের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর একটি মালবাহী বিমান। দুর্ঘটনার পর বিমানে থাকা টাকার বান্ডিল ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়।
বলিভিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় (Plane Crash) মৃত্যু ১৫ জনের
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অবতরণের সময়ই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারান। জানা গিয়েছে, বিমানটি সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে সদ্য ছাপা নোট নিয়ে বিভিন্ন শহরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার ধাক্কায় অন্তত ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতরা বিমানের যাত্রী ছিলেন, না কি রাস্তায় থাকা গাড়ির আরোহী তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:LGBTQ অধিকারের লড়াই থেকে রাজ্যসভা, মমতার পাশে থাকা মেনকা গুরুস্বামী আসলে কে?
মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় হাইওয়ের উপর পড়ার পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িগুলিকে ধাক্কা দিতে দিতে বেশকিছু দূর এগিয়ে যায় বিমানটি। এরপরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের সেই ছবি ও ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলির চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বান্ডিল বান্ডিল নোট। সেখানে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় দমকলকে।এরপর দমকলকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
এই দুর্ঘটনার সবথেকে মর্মান্তিক দৃশ্যটি হল অন্য একটি বিষয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর পীড়ীত মানুষদের সাহায্যে এগোনোর আগে রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা টাকার বান্ডিল কুড়োনোর হিড়িক লাগে মানুষের মধ্যে। স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সরিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার চেষ্টা করে। সেই দৃশ্যও ধরা পড়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োগুলিতে, যদিও সেই ভিড়িওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আপডেট! ফল প্রকাশের সম্ভাব্য দিন জানাল পর্ষদ
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল আমেরিকায় নির্মিত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস, যা সাধারণত সামরিক ও মালপত্র পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এই ধরনের বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। অমসৃণ রানওয়েতেও অবতরণে সক্ষম এই বিমান কী করে এরকম দুর্ঘটনার কবলে পড়ল বা কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারাল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণ, তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থেকে সমস্ত উড়ান সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।












